সোমবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৪

অবশেষে নিজ নিজ বাড়িতে,  প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়া সেই কিশোর- কিশোরী

রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রেমের টানে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর (১৫) সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া (১৪) বছরের এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে কোচিং সেন্টারে

আপডেট:

মোঃ রতন বাবু মিঠাপুকুর  (রংপুর)

রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রেমের টানে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর (১৫) সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া (১৪) বছরের এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার দুদিন পর উভয় পরিবারের সিদ্ধান্তে নাবালক এবং নাবালিকা সেই ছাত্রছাত্রীদেরকে বুঝিয়ে তাদের পরিবারে ফিরিয়ে এনেছেন স্ব-স্ব- অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

অভিভাবক এবং স্হানীয়দের ভাষ্যমতে, মিঠাপুকুর উপজেলার ০২ নং রানীপুকুর ইউনিয়নের তাজনগর যৌথপাড়া গ্রামের  মৃত-মুকুল মিয়ার দাদার কাছে লালিত পালিত নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাবালিকা কন্যার সঙ্গে বলদিপুকুর সন্তোষ পাড়ার শ্রী- নকুল চন্দ্রের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের একই বিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। নাবালক নাবালিকা হওয়ায় ঐ ছাত্রছাত্রী উভয়ে তাদের জাতপাত বুঝতেন না। এমনকি আবেগের বর্ষবর্তি হয়ে তারা বিয়ে করার সিধান্ত নিয়ে অজানার উদ্দেশ্য পাড়ি জমান।

৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক-৮ঃ টার সময় ঐ কিশোর কিশোরী তাদের পরিবারের কাছে নিকটস্থ একটি কোচিং সেন্টারে পড়ার কথা বলে দু’জনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কোচিং সেন্টার থেকে রাত অবধি না ফেরায় ঐ ছাত্রীর দাদা খোঁজাখুজি করে তার নাতনিকে না পেয়ে লোকমুখে তার নাতনির সঙ্গে হিন্দু ধর্মালম্বী ঐ কিশোরের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে নকুলের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন নকুলের ছেলেও বাড়িতে নাই। তখন তাদের উভয়ের সন্দেহ হলে তারা তাদেরকে ফিরে পেতে খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৫-মে) বিকাল আনুমানিক চারটার সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে জনৈক এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ঐ ছাত্রীর দাদাকে জানায় যে, ঐ ছাত্র তার ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে বিয়ে করার চেষ্টা করলে নাবালক হওয়ায় তাদের উভয়কে তারা আটক রেখেছে। পরিবারের লোকজন আসলে তাদের হাতে তুলে দেবে। পরে ঐ কিশোরীকে তার মায়ের জিম্মায় এবং কিশোরকে তার এক নিকটাত্মীয়ের জিম্মায় দেয়া হলে কিশোর বিয়ে করার সিদ্ধান্তে কিশোরীর মায়ের সঙ্গে ঢাকার নরসিংপুরে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে।

এদিকে কিশোরীর দাদা মিঠাপুকুর থানায় তার নাতনি হারানোর ঘটনায় নিখোঁজ জিডি করেন এবং ধর্মীয়, জাতিগত এবং উভয়ের বয়স বিবেচনায় ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে উভয় পরিবারের সম্মতিতে শনিবার (৭- মে) রাতে তাদের নিজ নিজ পরিবারের লোকজন ঢাকা থেকে নিজ জিম্মায় নিয়ে আসেন। যদিও ঐ কিশোরী তার দাদার কাছে না এসে ঢাকায় তার মায়ের কাছেই অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে কিশোরীর দাদা মোকলেছার রহমান (ন্যাংগা) মিয়া জানান, দু’জনে ছোট মানুষ। তাছাড়া জাতিগতএবং ধর্মগত পার্থক্য রয়েছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা আমার নাতনিকে ফিরিয়ে নেই। ঐ কিশোরের বাবা নকুল চন্দ্র জানান, প্রেমঘটিত বিষয় নয়, সম্ভবত ঐ কিশোরীকে আমার ছেলে ঢাকায় তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য গিয়েছিল। ভূল বোঝাবুঝির পূর্বেই আমরা তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। যদিও অনেকে বিষয়টি অন্যভাবে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলো। মেয়ের পরিবারের লোকজন ভালো মানুষ হওয়ায় কেউ সূযোগ নিতে পারেনি।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ জিডি করেছিলো মেয়ের দাদা। পরে জানতে পারলাম মেয়টি তার মায়ের কাছে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত