ব্যাংক খাত সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই করতে একটি কমিশন গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি ও সংস্কার বিষয়ে একটি রূপকল্প তৈরি করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে এই রূপকল্প।রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারের বিষয়টিও চলে এসেছে। ব্যাংক খাতে টেকসই সংস্কার করার জন্য একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।উল্লেখ্য, দেশের ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচারসহ সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করতে এবং এ খাতকে টেকসই করতে অনেক দিন ধরেই একটি কমিশন গঠনের পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। গত বুধবার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. আহসান এইচ মনসুরও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।ওইদিন সাংবাদিকদের গভর্নর বলেন, ‘দুর্বল ব্যাংকগুলোতে অডিট করতে হবে। এটি নিয়ে একটা টাস্কফোর্স কিংবা কমিশন দিয়ে কাজ করতে হবে। যেসব দুর্বল ব্যাংক আছে তাদের সবার অডিট করতে হবে। তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কী ধরনের সাহায্য দেওয়া হবে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া মালিকানা পরিবর্তনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হবে অডিটের মাধ্যমে।
মূলত দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের রোববারের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, চাহিদা ও জোগানের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য মুদ্রানীতিকে সংকোচনমূলক অবস্থায় ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে উন্নতি ঘটাতে হবে সরবরাহ পরিস্থিতির। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে স্বস্তি পেতে সবাইকে আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরতে হবে।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত জুলাই মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে বেড়ে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়েও রোববারের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তারল্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যান্ড অর্থাৎ কেনা ও বিক্রির মধ্যে পার্থক্য ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তারল্য ফিরে আসবে এবং বিনিময়ের পরিমাণও দ্রুত বাড়বে
ব্যাংক খাতে দূর্নীতি রুখতে কমিশন গঠন করা হবে
আপডেট:

