লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
তাং ঃ ২৬.০৬.২০২৪
বিশ্বে ধর্মহীন লোকের সংখ্যা বাড়ছে! আমরা যাকে নাস্তিক বলি, Atheist বা misbeliever.
বাংলাদেশে নাস্তিক একটা গালি যা যন্ত্রতন্ত্র ব্যবহার করে প্রগতিশীলদের সমাজচ্যুত রাস্ট্র চ্যূত করা হয়! বিশ্বে “নাস্তিকতা” ও একটা বিশ্বাস। ধর্ম ও একটা অদেখা অচেনা শক্তির উপর বিশ্বাস! আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর কে আমি-আপনি কেউ দেখি নাই, তবু বিশ্বাস করি এবং তার বানী বহনকারী নবী পয়গম্বরেরর কথায় বিশ্বাস এনেছি। যারা বিশ্বাস এনেছিল আবার বিশ্বাস হারিয়েছে তাদের নিয়ে কিছু বলতে আমার এ লেখা!
বিশ্বে জাতিসংঘের সদস্য ভুক্ত দেশ ১৯৩ টা কিন্তু দ্বীপ রাস্ট্র গুলো ধরলে প্রায় ২৩২ টার মত দেশ আছে! কোন কোন দ্বীপে ধর্ম কেন আধুনিক বিশ্বের আলোবাতাস ও পৌঁছে নাই, বস্ত্র পরিধান ও তারা জানে না!আমরা ও আধুনিক রাস্ট্রে বাস করে নারী শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা, ইংরেজি শিক্ষা, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কবি সাহিত্যিক দার্শনিক গায়ক অভিনেতা হওয়াকে ধর্মহীন শিক্ষার কাতারে ঠেলে দেই, যারা কাপড় পরিধান করে না মন-মানসিকতায় তাদের মত ই!
প্রিয় পাঠক, বিশ্বে ৮৫ টা দেশের নাস্তিক বেশী।
ইউরোপীয় দেশগুলোতে ৫০ বছর বয়সের নিচে কেউ ই গির্জায় যায় না।অনেক গির্জা খালি পড়ে আছে (মার্কিন পিউ রিসার্চ)! কেন গির্জায় যায় না এমন জরিপ ১০ হাজার নতুন জেনারেশন কে জিজ্ঞেস করে উত্তর পাওয়া গেছে, “সব ধর্মের উপসনালয়গুলোতে যারা ধর্ম শিক্ষা দেয় তারা চতুর্মাত্রিক জ্ঞানী না, গতানুগতিক একই আলোচনা, যেখানে নারী অধিকার খর্ব করো, মডার্ন যুগের আলোচনা নাই, অর্থনৈতিক বিপর্যয় কিভাবে ব্যক্তি থেকে রাস্ট্র সামলাবে তা তারা জানে না। বিশ্বের ভূরাজনৈতিক হানাহানি হত্যা কিভাবে সমাধান হবে তার আলোচনা গির্জা মসজিদ মন্দিরে নাই। বেকারত্ব দূর হওয়ার কোন সমাধান তাদের মাথায় কখনওই ছিলো না অথচ সারা বিশ্বে বেকারত্ব বাড়ছে, অভিবাসী বাড়ছে, অনাহার অর্ধাহার বাড়ছে হুহু করে! জাতিগত বৈষম্য, জাতি নিধন হচ্ছে বিভিন্ন দেশে এসব খবর ও যারা জানে না তারা ধর্ম বুঝায় উপসনালয়গুলো তে!
ইউরোপের শক্তিশালী মুসলিম দেশ তুরস্কের নাস্তিকতা বাড়ছে (জেন্ডা জরিপ), আরব দেশগুলোতে নাস্তিকতা বাড়ছে ১০ দেশে দ্রুত। তিউনিসিয়ায় ৩৫% লোক আল্লাহ বিশ্বাস হারিয়েছে! জাপানে ৩১%, রাশিয়ায় ১৩%, এমনি ঘোষিত নাস্তিক ছাড়াও ধর্মের লেবাসে থেকে ও ধর্ম বিরুদ্ধ কাজ করা ব্যক্তিরা নাস্তিক থেকে ভয়াবহ। তারা মানুষ কে ধর্মীয় প্রতারণা করে ব্যবসা করছে। কেউ ধর্মীয় শিক্ষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে মাওলানা মুফতি হয়ে চাকুরীতে তহবিল তসরুপ,অনৈতিক কাজে জড়ানো, মাদ্রাসা মসজিদ খুলে মানুষের কোমল মনে ধর্মীয় আস্হা এনে দান খয়রাত নিয়ে নিজের আরাম আয়েশ বিলাসিতা বাড়াচ্ছে!মসজিদ মাদ্রাসা কবরস্থান গির্জা মন্দিরের ক্যাশ চুরি, ছাত্র-ছাত্রী কে যৌন নির্যাতন নিত্য দিনের ঘটনা! এমন ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্ম সমাজ রাস্ট্রের ক্ষতি করছে এবং তাদের এই প্রতারণা দেখে অনেক মানুষ ধর্ম বিমুখ হচ্ছে!
মসজিদের ইমাম রাজনৈতিক নেতা কেউ হেফাজতে ইসলাম কেউ জাতীয়তাবাদী কেউ আওয়ামী!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন! ধর্ম প্রতারণায় সতর্ক থাকেন!
মসজিদ ইমাম ছাত্রলীগের নেতা।



