রবিবার, মে ১৯, ২০২৪

উপজেলা পরিষদ থেকে উন্নয়ন বরাদ্দ না দেওয়ায় সাত চেয়ারম্যানের উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনকে বয়কট ঘোষনা

আপডেট:

 বাগেরহাটের রামপালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এডিবি ও রাজস্ব ফান্ডের কোটা থেকে প্রাপ্ত টাকা না দেওয়ায় ৭ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা বয়কট করেছে। তাদের প্রাপ্য অংশ সঠিকভাবে না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনকে কোন প্রকার সহযোগীতা করবে না বলে জানিয়েছে।
১৫ জুন বৃহস্পতিবার মাসিক সমন্বয় সভা বয়কট করে এ সংক্রান্ত এক অভিযোগ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করেছে। যে সাতজন চেয়ারম্যান মাসিক সমন্বয় সভা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা হলেন বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, উজলকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেড, গৌরম্ভা ইউপি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাজীব সরদার, পেড়িখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, রামপাল সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন ও মল্লিকেরবেড় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ তালুকদার ছাবির আহমেদ।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যানবৃন্দ জানিয়েছেন যে, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক পেয়ে  নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তাদের এই ৭ জনকে উপজেলা পরিষদ থেকে কোন উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়না। ফলে তাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে তারা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা আরও জানান যে, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা সুষম বন্টন না করে তার ব্যক্তিগত পছন্দের অ-নির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে নিম্ন মানের কাজ করে কমিশন বাণিজ্য করছে-যা সর্ব মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা লিখিত অভিযোগে আরও জানান যে, তারা অনেক চেষ্টা করেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে বরাদ্দ না পেয়ে এবং বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়ে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তবে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অঙ্গিকারাবদ্ধ। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন যে, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় কিছু স্বার্থান্বেষী সুবিধাবাদী ও দালাল প্রকৃতির
লোকদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে জণগনের ন্যায্য হরণ করেছেন। এর সুষ্ঠ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা  উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনকে সকল প্রকার সহযোগীতা বন্ধ রাখার ঘোষনা করেছেন। এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান যে, ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যানগণ যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। তাদেও প্রাপ্য বরাদ্দ নিয়ম মাফিক  দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমি কোন কমিশন বাণিজ্যের সাথে আদৌ জড়িত নই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিবুল আলম জানান যে, চেয়াম্যানগণ লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বাগেরহাট জেলা
প্রশাসক মহোদয়কে অভিযোগের কপি প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত