স্মরণ করছি কুমুদিনী হাজং কে- যিনি গত বছর ২৩ শে মার্চ দেহত্যাগ করেন।কুমুদিনী হাজং এর সাথে আমার পরিচয় মেলা আগে।।অনেকটাই কাকতালীয় ভাবে। সালটা সম্ভবত ২০১৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রী নিয়ে গেলাম নেত্রকোনার সুসং দূর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী দেখতে। লোকাল গাইড বললো- নদীর ওপারেই টংক আন্দোলনের একটা মনুমেন্ট আছে। আমি তখনো টংক আন্দোলন সম্পর্কে তেমন জানিনা। মনুমেন্ট দেখতে গিয়ে লোকাল গাইড আমাকে কুমুদীনি হাজং এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।।তখনো উনার অনেক বয়স কিন্ত কি অসাধারণ এক এনার্জি নিয়ে জমিদার তথা সমাজের উচু শ্রেণির শোষনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের গল্প বলে গেলেন। উনার বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছিলো আমি সেই সময়কে দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনে।এমন মহান এক বিপ্লবীকে সামনে পেয়েও তখন আমার অজ্ঞতার কারণে উনার অবদান ঠিকমত অনুধাবণ করতে পারিনি। কিন্ত পরে যখন সামান্য পড়ালেখা করলাম, আরো জানলাম- শ্রদ্ধায় আমার মাথা নত হতে থাকলো। এই মহিয়সীর ভূমিকা লিঙ্গ, শ্রেণি এবং জাতিগত নিরিখে উপনিবেশিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে একত্রিত প্রতিরোধের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।উপনিবেশিক এবং জমিদারি ব্যবস্থার দ্বৈত শোষণ থেকে মুক্তির জন্য এই অঞ্চলের মানুষের যে সংগ্রাম, কুমুদিনী হাজং ছিলেন তার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।কুমুদিনী হাজং-এর জন্ম ১৯৩৩ সালে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা মহকুমার কালোয়াজুরি এলাকায় (বর্তমান বাংলাদেশে)। তিনি হাজং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।তিনি টংক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন ১৯৫০ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে, যা তাঁকে এই আন্দোলনের অন্যতম কনিষ্ঠ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীতে পরিণত করে।টংক ছিল এক ধরনের ভূমি-ব্যবস্থা যেখানে জমির মালিকানা জমিদারের হাতে থাকত এবং স্থানীয় কৃষকরা জমি চাষ করলেও তার উপর কোনও অধিকার পেত না। জমিদারের কাছে উচ্চ হারে খাজনা, বলপূর্বক শ্রম (বেগার), এবং নানা ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে হাজং জনগোষ্ঠী টংক আন্দোলন গড়ে তোলে।কুমুদিনী হাজং শুধু কৃষকদের সংগঠিতই করেননি, বরং নারীদেরও আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেন, যা এই সময়ের গ্রামীণ পটভূমিতে ব্যতিক্রমী ছিল।
Baten Mohammed
স্মরণ করছি কুমুদিনী হাজং কৃষক বিপ্লবী নারী
আপডেট:

