সোমবার, মে ২০, ২০২৪

ঔষধ ব্যবসার অন্তকথা

আপডেট:

মোঃ ইসমাইল হোসেন সজীব
চাটখিল নোয়াখালীঃ

সাধারণ মানুষের চোখে সবচেয়ে পরিস্কার, সুন্দর, শিক্ষিত, রানিং,অধিক লাভের জনপ্রিয় ঔষধের ব্যবসা,কিন্তু অন্তকথা ভিন্ন মত প্রকাশ করে।

ডেট এক্সপেয়ারি হয় বেশি,সেটা সব কোম্পানি ফেরত নেয়না আর যারা নেয় তারও সঠিক ভাবে সবাই ফেরত দেয়না,বাকি বিক্রি হয় মুদি দোকানের মত আর বাকি টাকা উঠানো অনেক মুশকিল,প্রচুর আন্ডার থাকায় মাল কেনায় বৈষম্য হওয়ায় বড় দোকান গুলা প্রায় ছোট দোকানের কেনা দামের কমেও মাল বিক্রি করতে পারেন,ডিসকাউন্ট শব্দটা এখানেই বেশি ঔষধ দোকান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি ফলে ডিসকাউন্ট প্রতিযোগিতা চলে তবে সৎ ব্যবসায়ীরা ঠকে যায় অন্য দিকে চাটুকাররা লাভবান হয় কারন তারা প্রকৃত ছাড় দেয়না কোন না কোন ভাবে চালাকি করে,কাস্টোমারের আচরণে ও এখানে বর্তমানে অনেক ঘাটতি দোকান বেশি হওয়ায় এবং অসৎ ব্যবসায়ীদের জন্য মানুষ এখন ঔষধ দোকানদারদের বিশ্বাস করেনা তাই সন্মান ও করেনা,সর্ট আইটেম থাকেই আপনি যত টাকা-ই- ইনভেস্ট করবেন ঔষধ পরিপূর্ণ হবেনা কেননা একেক চিকিৎসক একেক কম্পানির মেডিসিন লিখেন,এবং প্রতিনিয়ত নতুন গ্রপের ঔষধ তৈরী হচ্ছে ফলে দোকানদারকে দৌড়াতে হয় অন্য দোকানে,কোম্পানি পরিবর্তন কমবেশি সবাই করে কারন করতেই হয় ঔষধ যদি একই গ্রুপের এবং মানসম্মত কম্পানির হয় তাহলে এটা স্বাভাবিক কিন্তু সাধারণ মানুষ এটা মানতে নারাজ তবে প্রায় পরিস্থিতির জন্য দোকানদার বাধ্য পরিবর্তন করতে পরে আবার ঝামেলাও পোহাতে হয় মাঝে মধ্যে,একবারে খুচরা বিক্রি করতে হয় ১০/২০ পয়সা লাভের জন্য পাতা কেটে ১টা ২ টা ট্যাবলেট দিতে হয় এ ক্ষত্রে অনেক কম্পানি কাটা পাতা ফেরত নেয়না আর ১ টা ট্যাবলেট কেটে দিতে ১ পাতা বা বক্স দেওয়ার সমান পরিশ্রম,এই বিজনেস স্টাপ নির্ভর
এই লাইনে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন না হলে দোকানে রেখে লাভ নাই,আবার যে কেউ চাইলেই ২/৩ মাসে শিখতে পারেনা আর বর্তমানে তুলনা মুলক এই লাইনে বেতন কম তাই স্টাফ মিলানো বড় সমস্যা,সময় দিতে হয় অনেক এই ব্যবসায় পন্য কিনবেন টাকা দিবেন শুধু এটাই নয় এখানে বিশ্বাসের বিষয় জড়িত ফলে ফুল টাইম সময় দিতে হবে,শিশু শ্রেণির ক্লাশ নেওয়ার মত কিছু কাষ্টমার কে বুঝাতে হবে কিন্তু বর্তমানে সময়ের তুলনায় ইনকাম অবশ্যই কম,ড্রাগ সমিতি এখানে ভাইটাল পদ পদবিতে বড় ব্যবসায়ীরা থাকে ফলে অদৃশ্য ভাবে ছোট ব্যবসায়ীদের তারাই শোষণ করেন,যেমন তাদের দেওয়া নিয়মের কারনে ছোট দোকানদার অনেক কিছু বিক্রি করতে পারেনা কিন্তু বড়রা ঠিকই করছে ছোটরা নানা দায়বদ্ধতায় চুপ থাকতে হয়,ভ্রাম্যমান আদালত প্রায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে যেহেতু ঔষধ মানুষের সুস্থ থাকার জন্য তাই এখানে প্রশাসকের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এবং তাদের আইন সম্পুর্ন মানা কারো পক্ষেই সম্ভব না ফলে স্মার্ট এই ব্যবসা নিয়েও সব সময় তাদের ভয়ে থাকতে হয় তারা ধরলে আপনার জরিমানা হবেই,সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতি দেখে ঔষধ ব্যবসায়ীদের চোর মনে করেন এবং সমালোচনা শুরু করে প্রচুর,দালালী একটা বড় সমস্যা এখানে সবচেয়ে নোংড়া ব্যাপার হলো আপনি বুঝবেন না আপনার পরিচিত হাসপাতাল লাইনের লোক আপনার ঔষধের বিল থেকে কমিশন খাবে এমনকি চাটখিলে ডাক্তার ও ঔষধ দোকান থেকে এই ৩০/৪০ টাকা কমিশন খায় এগুলা গুনাহের পাশাপাশি অত্যান্ত ছোট কাজ,আসলে এই লাইনে সৎ ভাবে ব্যবসা করে খুব কম লোক কারন অনেক অপ্রিয় সত্য কাস্টমার বুঝেনা,যেমন আপনি বেশি ডিসকাউন্ট চাইবেন তখন দাম বাড়তি ধরে কমাবে এটা কমন এবং সুযোগ পেলেই মানহীন অধিক লাভের ঔষধ ডুকিয়ে দিবে।

পরিশেষে বলা যায়,অবশ্যই এটা রানিং ব্যবসা দেশে যত বড় দূর্যোগ আসুক এটা চলবেই এবং এখানে সৎ থেকে মানুষের সেবা করার সুযোগ অনেক বেশী,আর প্যারা প্রকৃত অর্থে কম বেশি সব ব্যবসায় আছে কারন অন্যের পকেটের টাকা আপনার পকেটে তার ইচ্ছার মাধ্যমে আনা অবশ্যই সহজ কাজ নয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত