সোমবার, মে ২০, ২০২৪

কুষ্টিয়ার ৭ শিক্ষককে অর্ধকোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ

আপডেট:

হৃদয় রায়হান ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

জাল সনদে কুষ্টিয়ার ৭ সাতজন শিক্ষিক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে প্রায় কোটি টাকা সরকারি বেতন ভাতা ভোগ করেছেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি দেশের স্কুল-কলেজে কর্মরত ৬৭৮ জন জাল সনদধারী শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে তাদের এমপিও বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে এমপিও বাবদ ভোগ করা কোটি কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে।

জাল সনদধারী যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন তাদের অবসর সুবিধা বাতিল করে যারা স্বেচ্ছায় অবসরে গেছেন বা চাকরি ছেড়ে পালিয়েছেন তাদের টাকা অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে আদায় করতে বলা হয়েছে। আর প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা করতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর যাচাই বাছাই করে সারাদেশে ৬৭৮ জন শিক্ষক কর্মচারীর জাল সনদ শনাক্ত করেছে। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সনদ প্রদানকারী দফতর প্রধান প্রতিনিধি সমন্বয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সনদের সত্যতা যাচাইপূর্বক ৬৭৮ জনের জাল সনদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জাল সনদধারী শিক্ষকের মধ্যে কুষ্টিয়ায় ৭ জন শিক্ষক সরকারের ৯৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৭২ টাকা অবৈধভাবে বেতন ভাতা ভোগ করেছেন।

এর মধ্যে- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দিনমনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) কাজী জাকিয়া সুলতানা ২০ লক্ষ ৮৩ হাজার ১০৬ টাকা, দহকুলা মহম্মদশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মো. মিরাজ আলী ২২ লক্ষ ২৮ হাজার ১৪৩ টাকা, কুমারখালী উপজেলার নাতুরিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) ইদ্রিস আলী ১৫ লক্ষ ১০ হাজার ৯২ টাকা, বুজরুখ বাখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহ: শিক্ষক (কম্পিউটার) টিপু সুলতান ৭ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬১৫ টাকা, দৌলতপুর উপজেলার খাসমথুরাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহ: শিক্ষক (গণিত) এস এম তুহিনুজ্জামান ৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮৭৫ টাকা, ভেড়ামারা উপজেলার ভেড়ামারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাকটর শাহিনা খাতুন ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৫৫ টাকা ও আব্দুল হক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মুসলিমা খাতুন ২০ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৮৬ টাকা ভোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়ায় জাল সনদধারী ৭ শিক্ষকের ৬ জন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে পূর্বের ন্যায় পাঠদান চালু রেখেছেন। এছাড়া বুজরুখ বাখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) টিপু সুলতান অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্বেই চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, কুষ্টিয়া জাল সনদধারী শিক্ষকদের অফিস আদেশ এখনো পাইনি। আদেশের পর নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত