চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি গেল দুই বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। এবারও তারা বাছাইপর্বে প্রথম ম্যাচ হেরেছিল নরওয়ের বিপক্ষে। সেই হারের পরই কোচ স্পালেত্তিকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় ইতালি ফুটবল ফেডারেশন। তার শেষ ম্যাচে মলদোভার বিপক্ষে জেতে আজ্জুরিরা। গাত্তুসো দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এস্তোনিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছিল ইতালি। তবে ইসরায়েলের মাঠে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হলো ইতালিকে। শেষ পর্যন্ত ইতালি ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছে। ম্যাচটি হারলে ইতালির বিশ্বকাপে খেলা শঙ্কায় পড়তে পারত।হাঙ্গেরির দেব্রেসেনে সোমবার রাতে ম্যাচ শুরুর আগে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজার সময় বেশ কয়েকজন ইতালিয়ান সমর্থক মাঠের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়ান। গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারা লাল ‘স্টপ’ চিহ্ন অঙ্কিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল ‘ঝঞঙচ’। সমর্থকদের এই দলটি ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী গানও গায়ে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইতালির কোচদের সংগঠন (এআইএসি) দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফাইজিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছিল।মাঠের খেলায় ৯ গোলে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল ইতালিয়ানরাই। নিজেদের ভুলে হারতেও পারত গাত্তুসোর দল। ম্যাচের স্কোর লাইন ৪-৫ হলেও ইতালির খেলোয়াড়রাই করেন মোট ৭ গোল! আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে পজিশন ধরে রাখায় কিছুটা এগিয়ে ছিল ইতালি, আক্রমণেও তারা এগিয়ে ছিল। তবে ম্যাচের ১৬ মিনিটে লোকাতেল্লির আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ইসরায়েল। ৪০ মিনিটে ময়েসে কিন ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে সমতায় ফেরান দলকে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলে৫২ মিনিটে দর পেরেৎজের গোলে আবার এগিয়ে যায় ইসরায়েল। পরের ৬ মিনিটে দুটি গোল করে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ইতালি। ৫৪ মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কিন। আজ্জুরিদের এগিয়ে দেওয়া গোলটি করেন মাত্তেও পলিতানো। ৮১ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে রাসপাদোরির বাঁ পায়ের শটে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইতালি। তবে ম্যাচে নাটকীয়তার তখনো ঢের বাকি। ৮৭ মিনিটে প্রতিপক্ষের কাছে বল যাওয়া ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠান ইতালির ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। দুই মিনিট পর পেরেৎজ হেডে গোল করলে স্কোর ৪-৪ হয়। গ্যালারিতে ইসরায়েল সমর্থকরা তখন পয়েন্ট পাওয়ার ক্ষণ গুনছিলেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জয়সূচক গোলটি করেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডে খেলা মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালি।ম্যাচ জিতলেও ইতালির কোচ গাত্তুসো জানালেন দিনটি তাদের খারাপ কেটেছে। খেলোয়াড়দের দোষ না দিয়ে নিজের উন্নতি করার কথা বলেন তিনি। ‘আমরা খুব সহজে গোল করতে দিয়েছি তাদের। ছেলেরা এটা জানে কিন্তু সমস্যা আমার, তাদের নয়। দল হিসেবে খেলতে হলে আমাদের কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। আমার স্টাফ ও আমাকে যত দ্রুত সম্ভব উন্নতি করতে হবে। আমি আমার খেলোয়াড়দের সমালোচনা করছি না।’ চার গোল হজমের পর পাঁচটি গোল দেওয়ায় এবং গোলের ধরনে সন্তুষ্ট কোচ। ‘কৃতিত্ব দলের, কারণ প্রতিটি আঘাতের (গোল) জবাব দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের ছিল। তবে এত সহজে গোল হজম করা মেনে নিতে পারি না।’ এই জয়ে চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে ইতালি।

