মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬

শিক্ষাঙ্গন আবার মুখরিত হোক শিক্ষার্থীদের পদচারণায়

আপডেট:

শিক্ষাঙ্গন আবার মুখরিত হোক শিক্ষার্থীদের পদচারণায়
=====================================
বার্তা সম্পাদক *দৈনিক সকালের কন্ঠ :ফয়েজুর রহমান **
বাংলাদেশের এযাবতকালের যত ছাত্র আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে তার মধ্যে অবিস্মরণীয় এবং বৃহৎ ছাত্র আন্দোলন হলো ২০২৪ এর রক্তাক্ত জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন।
প্রথমে এ আন্দোলন ছিল কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লড়াই । তারা চেয়েছিল কোটা সংস্কারের মাধমে মেধার ভিত্তিতে নির্ধারিত হোক সরকারি চাকুরী। তারা কোটার বাতিল চায়নি, চেয়েছিল সংস্কার।কিন্তু ছাত্রদের এই নায্য দাবিকে শেখ হাসিনা সরকার প্রথমে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে এবং পরে স্বৈরাচারী কায়দায় দমনের চেষ্টা করে । পরে যদিও আদালতের মাধ্যমে কোটার সংস্কার করে আদালতের রায় এসেছে কিন্তু ততদিনে অনেক জল ঘোলা হয়েছে, অনেক নিরীহ ছাত্র ছাত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছে হাসিনা সরকারের পুলিশ ও পেটুয়া বাহিনী। এত হত্যা গুম খুন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের আমলেও আমরা দেখিনি । শতশত নিরস্ত্র ছাত্রজনতা হত্যার পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্ররা সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে নামে। ছাত্রজনতার অভ্যুথানে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি দেন। সারা দেশের ছাত্রসমাজ সেদিন বিজয় আনন্দ উদযাপন করেন। ৮ই আগস্ট ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। ৫ই আগস্ট থেকে ৮ই আগস্ট সরকার গঠনের পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্র ছিল সরকারবিহীন। এই কদিনে দেশে এক নিয়ন্ত্রণহীন অরাজক পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতিকারীরা যথেচ্ছ লুটপাট এবং ডাকাতি করেছে । এখানেও এগিয়ে এসে হাল ধরেছে ছাত্রসমাজ। ডাকাত পাহারা থেকে শুরু করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সংসদভবনসহ বিভিন্ন রাস্তা ঝাড়ু দেয়া, ময়লা পরিষ্কার করা সবই করেছে ছাত্রসমাজ । এছাড়াও বিভিন্ন থানা যখন সচল করা হয় তখন থানা পাহারায়ও এগিয়ে আসে এই ছাত্রসমাজ। সারাদেশে বিভিন্ন দেয়ালে তারা বর্ণিল এবং দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি অংকন করে সৌন্দর্য বর্ধন করেছে। শুধু আন্দোলন করে বিজয় অর্জন করে বসে না থেকে তারা শামিল হয়েছে দেশগঠনে । উপদেষ্টা পরিষদেও স্থান পেয়েছেন দুইজন নেতৃস্থানীয় সমন্বয়ক।দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে শামিল থাকাসহ বিভিন্ন কারণে ছাত্ররা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত ছিল । এখানে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশও ছিল একটা ফ্যাক্টর । আজ সময় এসেছে ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করার। তারাই আগামীর বাংলাদেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম যথার্থই বলেছেন “ট্রাফিক পুলিশ এখন থেকে ট্রাফিক নিয়ন্রণের দায়িত্ব নেবেন। ছাত্রদের এখন আর রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্রণ করার দরকার নেই। তাদের লেখাপড়ায় ফিরে যাওয়া উচিত।বিভিন্ন পাবলিক এবং শায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ পদত্যাগ করেছেন। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ করে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি। পূর্বে আমরা দেখেছি একটা দলের একক আধিপত্যে ছাত্র রাজনীতি কুলষিত হয়েছে, শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসমাজসহ সকল ছাত্রসমাজ চায় রাজনীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত শিক্ষাঙ্গন। অভিভাবক হিসাবে আমাদেরও চাওয়া আমাদের ছেলেমেয়েরা ক্যাম্পাসে সুস্থ সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ায়, গবেষণায় মনোনিবেশ করুক। আবার ক্যাম্পাস মুখরিত হোক শিক্ষার্থীদের পদচারণায়।
============================
ফয়েজুর রহমান
আইনজীবী
ফেনী
faizurlaw9@gmail.com

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত