বিশেষ প্রতিনিধি:
বানভাসি এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি, বস্ত্র ও অসুখ-বিসুখে প্রয়োজনীয় ঔষধপত্রের সংকট এক চরম আকার ধারন করেছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সহায়তার পরও অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছায়নি ত্রাণ। ফলে অনেক জায়গায় ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন মানুষজন। দ্রুত ত্রাণ সহায়তা চেয়েছেন তাঁরা।
এ লক্ষ্যে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরন ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে মানবাধিকার সংগঠন “ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস্ অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন” এর কেরাণীগঞ্জ উপজেলা কমিটি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জি. এম. কেরামত আলীর নির্দেশনায় ও ভাইস-চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান কমল ওরফে সানীর ব্যবস্থাপনায় বন্যা কবলিত কুমিল্লার বুড়িচং থানা এলাকায় দিনব্যাপী চলে এই ত্রাণ বিতরন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। এতে সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এই সেবামূলক কার্যক্রমে সংগঠনের আরো উপস্থিত ছিলেন মোখলেসুর রহমান- কেরাণীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি, আফজাল হোসেন ঈমন- কেরাণীগঞ্জ উপজেলা সহ-সাধারন সম্পাদক, তানজির আহমেদ- কালিন্দি ইউনিয়ন সভাপতি, মো. রুহুল আমিন- জিঞ্জিরা ইউনিয়ন প্রচার সম্পাদক, এবং কেরাণীগঞ্জ উপজেলা সদস্য মো. রতন, মো. স্বপন ও জনি। এছাড়াও দুইজন ডাক্তার ছিলেন, ডাক্তার মো. নিরব- আগানগর ইউনিয়ন সভাপতি ও কেরাণীগঞ্জ উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা ডাক্তার বাদশা হোসেন।
নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্য ও খাদ্য সামগ্রী মিলিয়ে ২ শতাধিক পরিবারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেয় সংগঠনের এসব কর্মীরা। স্থানীয় একটি আশ্রয় কেন্দ্র “আগার আনন্দ নগর উচ্চ বিদ্যালয়” এ পৌঁছে দেখা যায়, সেখানে আশেপাশের প্লাবিত বিভিন্ন গ্রামের সহায়-সম্বলহীন ৫৫ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারের সাথেই যেমন বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন, তেমনি রয়েছে দুধের বাচ্চাসহ বিভিন্ন বয়সের শিশুরা। যাদের বেশীরভাগই ঠান্ডা-কাশি ও পেটের অসুখসহ নানাবিধ রোগাক্রান্ত হয়ে যেন নিরুপায় সময় পার করছে। এ সময় বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী হাবিবুর রহমান ও দপ্তরী ময়নাল খানের সহায়তায় দ্রুত একটি কক্ষে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে পূর্ব হতে প্রস্তুত থাকা ডা. নিরব ও ডা. বাদশা হেসেনের সমন্বয়ে চিকিৎসা সেবা শুরু করা হয়। একে একে ৫৫ টি পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য ছাড়াও খোঁজ পেয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে থেকেও অনেকে এসে সম্পূর্ন বিনামূল্যে এখান থেকে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ গ্রহন করেন।
এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী হাফিজুর রহমান কমলের কাছে তাঁর অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুদূর ঢাকা থেকে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বানভাসি মানুষের কাছে এসে তাঁদের জন্য সামান্য কিছু করতে পারায় আমি আনন্দিত। আমি চাই সমাজের বিত্তবানরা তাদের সামর্থ অনুযায়ী এই সমস্ত দরিদ্র-অসহায় মানুষদের পাশে থাকবেন। বন্যা পরবর্তী সময়ে তাঁদের পুনর্বাসনে মানবাধিকার সংগঠন “ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস্ অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন” তাদের পাশে থকবে বলে প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন এই মানবাধিকার কর্মী।



