বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২৬

টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যে কার্যক্রম আমাদানি -রপ্তানি বন্ধ

আপডেট:

মিয়ানমারের বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সম্মতি না পাওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যে বন্ধ রয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। বন্দরে গুদামগুলোতে পড়ে আছে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫ কোটি টাকার রপ্তানিযোগ্য পণ্য। এর মধ্যে আলু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হওয়ার পথে। এতে বড় লোকসানে পড়তে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সংকট নিরসনে কোনো উদ্যোগ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যে থেকে কাঠ নিয়ে একটি বোট এসেছিল। এরপর আর কোনো পণ্যে আমদানি-রপ্তানি হয়নি। তবে তার আগ থেকে গত তিন মাস ধরে ইয়াংগুন-টেকনাফ স্থলবন্দর সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। ফলে পুরোপুরিভাবে স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধের পথে। এতে সরকারও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ স্থলবন্দর রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সোহেল উদ্দিন বলেন, ইয়াংগুনের পর এবার আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইনের টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। মূলত আরাকান আর্মির অনুমতি না পাওয়ায় এখান থেকে কোনো মালামাল যাচ্ছে না এবং ওপার থেকেও পণ্য আসছে না। ১৫ দিন ধরে মংডু-টেকনাফ স্থলবন্দের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে স্থলবন্দরের কার্যক্রম প্রায় শূন্যের কোঠায়। কারণ এর আগে গত তিন মাস ধরে ইয়াংগুন-টেকনাফ স্থলবন্দর সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্থলবন্দরে ২৭শ বস্তা আলু, ২২ হাজার বস্তা সিমেন্ট ছাড়াও পানি, চিপস, চানাচুর, বিস্কুট, পানি ও প্লাস্টিক পণ্যও পড়ে আছে বিভিন্ন গুদামে। এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, আরাকান আর্মির অনুমতি না আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্থলবন্দরে অবস্থা খুব খারাপের দিকে। এর মধ্যে বন্দরে পড়ে থাকা আরও পচনশীল হওয়ায় তা নষ্ট হওয়ার পথে। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছে। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সময়ে মিয়ানমারের উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সীমান্ত বাণিজ্য আগের মতো স্বাভাবিক করতে হবে।বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, রাখাইন রাজ্য দখলের পর থেকে আরাকান আর্মির কারণে টেকনাফ-ইয়াংগুন সীমান্ত বাণিজ্যে রয়েছে গত তিন মাস ধরে। তখন থেকে ছোট পরিসরে চালু থাকা টেকনাফ-মংডু সীমান্তেও এবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত মার্চে রাখাইন থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে ৬৭৫.৪৩ টন বিভিন্ন পণ্যে আমদানি রয়েছে। এতে প্রায় আট কোটি রাজস্ব আদায় হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলারের ৩ হাজার ৪৫৫.৯৮৪ মেট্রিক টন বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্য উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আলু, বিস্কুট, পানি ও প্লাস্টিক প্রোডাক্ট।স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা মনির আহমেদ বলেন, পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পথে টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম। টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য থাকায় শ্রমিকরা বেকার সময় পার করছেন। এতে তাদের দুর্দিন যাচ্ছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের রপ্তানির উদ্দেশ্যে আনা আলুসহ বিভিন্ন পণ্যে পচন ধরেছে।এ ব্যাপারে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, মালিকবিহীন বিজিবির জব্দকৃত কাঠগুলো আমাদের হেফজতে রয়েছে। এ ছাড়া এবার টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যে বন্ধ রয়েছে। আপাতত আরাকান আর্মির সবুজ সংকেত না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কোনো পণ্যে আমদানি-রপ্তানি করছে না। ফলে গুদামে আলু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত