বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২৬

ডক্টর ইউনুস ও তারেক জিয়ার বৈঠক ক্ষুব্ধ জামায়াত এনসিপি

আপডেট:

লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক পরবর্তী যৌথ বিবৃতি নিয়ে অস্বস্তি বিরাজ করছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মধ্যে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান গ্রহণযোগ্য হলেও কেবল একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করায় ক্ষুব্ধ দল দু’টি। লন্ডন বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সরকার এবং বিএনপিকে সমশক্তি হিসেবে বোঝানো হয়েছে বলে মনে করছে জামায়াত। এর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয় ঘটেছে ও একটি দলের প্রতি সরকারপ্রধানের বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। এতে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও মনে করে দলটি। অন্যদিকে এনসিপি বলছে, একটি দলকে গুরুত্ব দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি করছে সরকার। যেটি অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। দলটি মনে করে বিচার ও সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া এভাবে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করে দিলে জনগণের মনোযোগ বিচার-সংস্কার থেকে অন্যদিকে চলে যাবে। দলটির নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ সংক্রান্ত আলোচনা যতটুকু গুরুত্ব পেয়েছে, বিচার ও সংস্কার ততটুকু গুরুত্ব পায়নি বলে মনে করে এনসিপি। বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ উল্লেখ করে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এনসিপি। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লন্ডনে অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মধ্যকার বৈঠকটি ‘সংসদ নির্বাচন’ বিষয়ে দলটিকে আস্থায় আনতে সফল হয়েছে সরকার। জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। কিন্তু বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ সংক্রান্ত আলোচনা যতটুকু গুরুত্ব পেয়েছে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিকদের প্রধান দাবি তথা বিচার ও সংস্কার ততটুকু গুরুত্ব পায়নি। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে করে এনসিপি।

নির্বাচন প্রশ্নে সরকার কেবল একটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান ও দাবিকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বলে বারবার প্রতীয়মান হচ্ছে- এ কথা উল্লেখ করে এনসিপি আরও বলেছে, জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং বিচারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন গণ-অভ্যুত্থানকে স্রেফ একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে পরিণত করবে এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন-আকাঙ্ক্ষাকে অবদমিত করবে।

বিজ্ঞাপন

জনগণের দাবি তথা জুলাই সনদ রচনা ও কার্যকর করার আগে নির্বাচনের কোনো তারিখ ঘোষিত হলে তা জনগণ মেনে নেবে না বলে উল্লেখ করেছে এনসিপি। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়গুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা ও জুলাই সনদ রচনা এবং কার্যকর করেই আসন্ন জুলাইকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার উদ্যোগ নিতে সরকারকে জোর দাবি জানাচ্ছে এনসিপি।’

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করা ও বিচারের রোডম্যাপ ঘোষণার পরই নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত হওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এনসিপি।

বিজ্ঞাপন

এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মানবজমিনকে বলেন, বিগত ১ থেকে দেড় মাস বিএনপি’র বক্তব্য দেখলে বুঝা যায় তারা বিচার ও সংস্কার থেকে নির্বাচনে বেশি ফোকাস দিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনায়ও তারা বিচার ও সংস্কার নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। শুধু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে। তারা জাতীয়ভাবেও নির্বাচনের জোয়ার তুলে বিচার-সংস্কারকে গুরুত্বহীন করে তুলতে চাইছে। তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী জুলাইয়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদ হয়ে গেলে সরকারকে বিচার কাজ এগিয়ে নিতে হবে। একইসঙ্গে দলগুলোর উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করবে। এরপর নির্বাচন ঘোষণা করলে এটি অর্থবহ হবে। অন্যথায় এটি ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে। আদীব বলেন, এনসিপি চায় বিচার ও সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি, এরপর নির্বাচন। নির্বাচন হলে এনসিপি অংশ নেবে। তবে তার থেকে আমাদের বেশি ফোকাস বিচার ও সংস্কারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত