শুক্রবার, মার্চ ৬, ২০২৬

পাশের দেশ ভারতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আশ্রয় নিয়েছে লোকবল নিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে: মীর্জা ফকরুল

আপডেট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশে বিভক্তি সৃষ্টি করার। পাশের দেশ ভারতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আশ্রয় নিয়েছে লোকবল নিয়ে। সেখান থেকে মাঝে মাঝেই হুমকি দিচ্ছে, তারা বাংলাদেশে আক্রমণ করবে, শুধু তাই নয়, সেখানে তারা বিভিন্নভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমাদের শপথ নিতে হবে, কোনোদিনই আমরা এই হাসিনাকে আর এই দেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ দেবো না। শপথ নিতে হবে, আমরা কারো কাছে কোনো মাথা নত করব না। আমরা আমাদের দেশকে নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলব।আজ রোববার জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে শাহবাগে ছাত্রদলের সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।গণঅভ্যুত্থানে মধ্য দিয়ে আমাদের এই বাংলাদেশকে আবার নতুন করে তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা অনেক রক্ত দিয়েছে, অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে, বার বার কারাগারে গেছে। আমার মনে হয়, এমন একজন ছাত্র ভাই নেই, যারা কারাগারে যায়নি, নির্যাতন সহ্য করেনি।

তিনি বলেন, আশুলিয়ায় ছাত্র ভাইদের গুলি করে মেরে ফেলার পরে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একটা ক্লাস টু’র ছেলেকে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দিয়েছে। সে মারা যায়নি। পরে সার্জারি করে তার মাথার ভেতরে প্লাস্টিক দিয়ে আর্টিফিসিয়াল খুলি তৈরি করে লাগিয়ে দিয়েছে।রংপুরের শহীদ আবু সাইদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ শত শত ছাত্রদের প্রাণ দেয়া স্মরণ করে তিনি বলেন, শুধু ৩৬ দিন নয়, তারও আগে ১৫ বছর ধরে আমাদের ছাত্র জনতা, শ্রমিকেরা প্রাণ দিয়েছে। প্রাণ দেয়া ও আত্মত্যাগ করার লক্ষ্য একটাই, সেটা হচ্ছে আমরা একটা সুন্দর আবাসভূমি চাই। ছাত্ররা কি চায়? তারা পাশ করে চাকরি পাবে, পাশ করে নিজেদের নিজে প্রতিষ্ঠিত করবে, বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করবে। এটাই তারা চায়। দেশে নতুন নতুন কারখানা দেখতে চায়। বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা দেখতে চায়। ন্যায়বিচার দেখতে চায়। এবং একই সাথে তারা দেখতে চায় যেখানে ভালো মানুষেরা দেশ শাসন করুক। একটা সুশাসন চায়।তিনি আরো বলেন, আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। আমাদের সামনে এখন লড়াই যে বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি।মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তারেক রহমান বৈঠক করে নির্ধারণ করেছেন যে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। গোটা বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। তার আগে গোটা বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব দেশে ফিরে আসবেন। তাই না? আমরা সবাই চাই, তিনি আসবেন, আমাদের নেতৃত্ব দিবেন। আমাদের পথ দেখাবেন।শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দেশকে সত্যিকার অর্থেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্বপ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়িত করি। আসুন, সত্যিকার অর্থে একটি সুখি, সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করি।ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান খান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত