রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশের মানুষ এক দশকের বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশের মানুষ এক দশকের বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে এবং অত্যাচার-নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। এত ত্যাগের বিনিময়েই আজকের এই গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ অনেক আশা-আকাক্সক্ষা-প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই ইফতার মাহফিলে আসুন আজ আমরা শপথ গ্রহণ করি-আগামীতে যে কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই তিনি যেন আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সহযোগিতা করেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী ইফতার মাহফিলে পৌঁছালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজকে আমাকে এবং আমার নেতৃবৃন্দকে ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। আজকে এখানে আমি কিংবা জামায়াতে ইসলামী নয় আরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এখানে উপস্থিত আছেন। আজকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা একত্রিত হয়েছি। কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য এক যুগের বেশি সময়ে মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছে। অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুনের শিকার হয়েছে। অনেক ত্যাগে গণতন্ত্রের সূচনা ঘটল। হাজার, লাখো মানুষের অত্যাচারের, নিপিড়নের, ত্যাগের মাধ্যমে আমরা আমাদের বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। আসুন এজন্য আমরা আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায় করছি। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।বর্তমান সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চাই না। আমরা চাই এ সংসদ হোক অর্থবহ এবং জনগণের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ কখনো এক চাকায় চলে না, এটি সচল রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল, উভয় চাকারই প্রয়োজন। সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। আমরা অতীতের মতো ‘ডামি’ বিরোধী দল হতে চাই না। সরকারের সঠিক পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, তবে কোনো অসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিলে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেব। জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই না সংসদের একটি সেকেন্ডও কারো চরিত্র হননের পেছনে নষ্ট হোক। বরং এটি হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতির জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একটি সাজানো রায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এলে তৎকালীন সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একদিনে ৭০ জন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৪ জনকে হত্যা করেছিল। এই ক্ষত আমাদের মন থেকে কোনোদিন মুছবে না। জামায়াত আমির দলের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, ২৪ এর ফ্যাসিবাদ যে এভাবে বিদায় নেবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। আমাদের সিংহশাবক ছাত্ররা এবং জুলাই যোদ্ধারা এ অসাধ্য সাধন করেছে। যারা শহীদ হয়েছেন আল্লাহ তাদের কবুল করুন এবং যারা আহত ও পঙ্গু অবস্থায় আছেন, জাতি তাদের চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।বক্তব্যে জামায়াত আমির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ফিরে এসে তিনি এটিকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন। জেলে থেকে আমরা তার সেই সাহসী ভূমিকা দেখেছি। আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রমজান আমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতির শিক্ষা দেয়। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তার হাতে কখনো জনগণের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। আমরা যেন এই শিক্ষা ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারি।
ইফতার মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও মঈন খান, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, বিভিন্ন সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত