রোম, ইতালি: বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে সহিংসতা রুখতে এবং সমাজ গঠনে বই ও সংস্কৃতির গুরুত্ব নিয়ে এক প্রভাবশালী বক্তব্য দিয়েছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা। বিখ্যাত সাহিত্য পুরস্কার ‘প্রেমিও স্ত্রেগা’ (Premio Strega)-এর একটি প্রতিনিধি দলের সাথে কুয়েরিনালে (Quirinale) আয়োজিত এক বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লা মনে করেন, রাজনীতিক বা ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা বর্তমানে নিজেদের আত্মজীবনী প্রচার ও প্রসারে যতটা মগ্ন, তার চেয়ে যদি তারা গুণগত সাহিত্য বা সৃজনশীল বই পড়তেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র অনেক বেশি উপকৃত হতো। তার এই বক্তব্যকে ইতালীয় রাজনীতিকদের প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন কিন্তু কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লা সংস্কৃতিকে কেবল বিনোদন হিসেবে না দেখে একে ‘অস্ত্র ত্যাগের পথ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতেযুদ্ধের বিপরীতে জ্ঞানচর্চাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।পড়া, চিন্তা করা এবং উপলব্ধির ক্ষমতা মানুষকে সহিংসতার পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে মানুষের মধ্যে চিন্তাশীলতা তৈরি করা অপরিহার্য।বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইতালির দুঃসময়ের কথা স্মরণ করেন। সেই সময়ে মিরা বেলনচি এবং গুইদো আলবার্তি যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সেই কঠিন সময়ে তারা বইয়ের মাধ্যমে মানুষের হাত থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিয়ে কলম আর চিন্তার জগতকে প্রাধান্য দিতে শিখিয়েছিলেন।আগামীতে ‘প্রেমিও স্ত্রেগা’ পুরস্কারের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এই মাইলফলককে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাত্তারেল্লা সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্ব পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান।”সহিংসতা রুখতে এবং একটি সভ্য সমাজ বিনির্মাণে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের বুঝতে হবে এবং চিন্তা করতে শিখতে হবে— সার্জিও মাত্তারেল্লা, প্রেসিডেন্ট, ইতালি।প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য কেবল ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আবহে এক গভীর মানবিক বার্তার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্ষমতাধরদের আত্মজীবনীর চেয়ে গুণী লেখকদের বই পড়া জরুরি: সার্জিও মাত্তারেল্লা
আপডেট:

