বুধবার, মে ৬, ২০২৬

অভিবাসী মোকাবিলায় ইতালির কঠোর অবস্থান অভিবাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে মেলোনির নতুন রণকৌশল

আপডেট:

​রোম: বর্তমান বিশ্ব এক জটিল ‘পলিক্রাইসিস’ বা বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তার মতে, অভিবাসন, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় এখন একে অপরের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে একটির সমাধান ছাড়া অন্যটি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।
​সম্প্রতি এক বিবৃতিতে মেলোনি ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
​অভিবাসন যখন ‘হাইব্রিড থ্রেট’​মেলোনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন প্রবাহ কেবল একটি মানবিক সমস্যা নয়, বরং এটি ইতালির জননিরাপত্তা, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি অভিবাসনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন​”অভিবাসনকে ‘হাইব্রিড থ্রেট’ বা কৃত্রিম হুমকি হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে রুখে দিতে হবে।”​ইইউ-র নতুন পদক্ষেপ ও ইতালির প্রস্তাব
​সংকট সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ এবং ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’ (Safe Third Country)-এর সংজ্ঞা নির্ধারণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন মেলোনি। তিনি মনে করেন, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচারের শিকার হতে পারে।
​ইতালির কূটনৈতিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জানান
​বর্তমানে ৩১টি দেশ ইতালির প্রস্তাবিত মানবপাচার বিরোধী এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে।ইতালির লক্ষ্য কেবল জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া নয়, বরং সংকট সৃষ্টির আগেই আগাম প্রস্তুতি ও রণকৌশল তৈরি করা।সমন্বিত ‘নেইবারহুড পলিসি’ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে মেলোনি একটি শক্তিশালী ‘নেইবারহুড পলিসি’ বা প্রতিবেশী নীতির প্রস্তাব দিয়েছেন। এই নীতির মূল স্তম্ভ হবে ​জ্বালানি নিরাপত্তা: অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি আদান-প্রদান সহজতর করা।টেকসই উন্নয়ন: অভিবাসনের উৎস দেশগুলোতে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের দেশত্যাগের প্রবণতা কমানো।যৌথ নিরাপত্তা মানবপাচারকারী চক্র রুখতে সীমান্ত রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ।প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বিশ্বাস করেন, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলোই পারে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত