বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসী ধরতে বড় অভিযানে গ্রেপ্তার ৯২০৯৭ জনকে আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত

আপডেট:

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এর সমন্বয়ে পরিচালিত অভূতপূর্ব অভিযানে হাই স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৯২০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপারেশন মেশিনাইজ নামের এই অভিযানে টার্গেট করা হয় মিনি-মার্ট, ভেপ শপ, বার্বার শপ, নেল বার ও টেকঅ্যাওয়ে দোকানসহ নগদ প্রবাহনির্ভর শত শত প্রতিষ্ঠানকে। অভিযানে অংশ নেয় ১৯টি পুলিশ বাহিনী, আঞ্চলিক অপরাধ দমন ইউনিট, হোম অফিস ও এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস।এনসিএ জানিয়েছে, অভিযানে ১ মিলিয়নেরও বেশি অর্থ জব্দ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৪০,০০০ নগদ পাউন্ড, ২ লাখের বেশি অবৈধ সিগারেট, ৭ হাজার টোব্যাকো প্যাক ও ৮ হাজার অবৈধ ভেপ পণ্য। অভিযানের সময় দুটি ক্যানাবিস (গাঁজা) চাষশালাও পাওয়া যায়। আধুনিক দাসত্বের শিকার শনাক্ত করতেও অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে ৯৭ জনকে আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচারের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তি মূলত অবৈধভাবে কর্মরত ছিলেন এবং তাদের অনেকেরই উপযুক্ত মজুরি ও আইনগত সুরক্ষা ছিল না। অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলে সাঁড়াশি অভিযান।এনসিএ-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগদ লেনদেননির্ভর হাই স্ট্রিট ব্যবসাগুলোর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান মানি লন্ডারিং, অবৈধ কর্মসংস্থান ও কর ফাঁকির সঙ্গে জড়িত। ইতিমধ্যে ৩৪০টিরও বেশি নোটিশ জারি করা হয়েছে অবৈধ কর্মসংস্থান ও ভাড়াবিষয়ক অপরাধে, যা ব্যবসায়ী ও জমিদারদের কয়েক হাজার পাউন্ড জরিমানার মুখে ফেলতে পারে।বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ, কিছু কুর্দি অপরাধচক্র “ঘোস্ট ডিরেক্টর” বা নামমাত্র পরিচালকের মাধ্যমে কোম্পানির সরকারি নথিতে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখে। এই নামমাত্র পরিচালকরা কোম্পানির কাগজে থাকলেও বাস্তবে ব্যবসার পরিচালনায় যুক্ত নয়। এর মাধ্যমেই অপরাধীরা আইন এড়িয়ে অবৈধ অর্থ প্রবাহ চালিয়ে আসছিল।বিবিসির একই প্রতিবেদন জানায়, এই চক্রের সদস্যরা ৬০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত অবৈধ কর্মসংস্থানের জরিমানা ‘গায়েব’ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এনসিএ’র মুখপাত্র বলেন,এই অভিযান দেখিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সাধারণ হাই স্ট্রিট ব্যবসাগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে সংগঠিত অপরাধের ছায়া। আমরা অবৈধ অর্থপ্রবাহ, মানব পাচার ও কর ফাঁকির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত