ইতালিতে মানবপাচার ও দাসত্বের মহোৎসব: ১৯.২ মিলিয়ন ইউরোর জালিয়াতি চক্র ধরা
ব্রেসিয়া, ইতালি: দীর্ঘ ছয় বছরের তদন্ত শেষে ইতালিতে অভিবাসীদের শোষণকারী একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১,৩৬৪ জন অভিবাসীকে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করিয়ে চক্রটি প্রায় ১৯.২ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বেশি) হাতিয়ে নিয়েছেলদন্তকারীদের তথ্যমতে, চক্রটি অভিবাসীদের অসহায়ত্বের সুযোগনিয়ে কয়েক ধাপে অর্থ আদায় করত:সজনাল পারমিট: ইতালি আসার জন্য জনপ্রতি ১৩,৮০০ ইউরো নেওয়া হতো।পারমিট পরিবর্তন: কাজের পারমিট স্থায়ী বা পরিবর্তন করার জন্য অতিরিক্ত ৭,২০০ ইউরো করে আদায় করা হতো।ভিযুক্তরা ইতালির বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi)-র নিয়মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তারা ভুয়া কাজের অফার লেটার এবং থাকার জায়গার জাল নথি তৈরি করে অভিবাসীদের ইতালিতে নিয়ে আসত। পুলিশের তদন্তে ১৮ মিলিয়ন ইউরোর ভুয়া ইনভয়েস পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে, যা মূলত ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
কৃষিখামারে অমানবিক ‘দাসত্ব’শুধু টাকা হাতিয়েই ক্ষান্ত হয়নি এই চক্র, শ্রমিকদের ওপর চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন। তদন্তে দেখা গেছে:অনেক কৃষি প্রতিষ্ঠান কাগজে-কলমে শ্রমিক নিয়োগ দেখালেও বাস্তবে তাদের অন্য ফার্মে দাসের মতো খাটানো হতো। টানা দুই মাস কোনো ছুটি ছাড়াই হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে বাধ্য হতেন।নূন্যতম মানবিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত রাখা হতো এই অভিবাসীদের।
গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা
এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া শোষণের এই প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারী ১২টি কৃষি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই অভিযানটি ইতালিতে কৃষি খাতে বিদ্যমান ‘ক্যাপোরালাতো’ বা আধুনিক দাসপ্রথা এবং অভিবাসন আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
ইতালিতে মানবপাচার দাসত্বের ১৯.২ মিলিয়ন ইউরো জালিয়াতি চক্রের ৩ ভারতীয় গ্রেফতার
আপডেট:

