সোমবার, মে ২০, ২০২৪

বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়না: হাসান ইকবাল

আপডেট:

ইতালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার খবর শুনে নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট ওই সময় মন্তব্য করেন, ‘মুজিব হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।’ তাই একজন নেতাকে হত্যার মাধ্যমে আমরা বিশ্বের বুকে নিজদেরকে প্রকৃত চরিত্রকে বিসর্জন দিয়ে ফেলেছি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পড়ে বঙ্গবন্ধু যখন খাদ্যাভাব দূরীকরণ, সামাজিক অস্থিরতা নিরসন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমুখী নীতি ও আইন প্রণয়ন করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেয়নি ঘাতকরা। সেই ষড়যন্ত্রের দরুন আমরা বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই যে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন এটা শুধু তাদের হত্যায় করা হয়নি তাদের সাথে সাথে আমাদের সবার অর্থাৎ পুরো বাঙালি জাতির যে চেতনা, হাজার বছরের লালিত যে স্বপ্ন যা বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে পেয়েছিলাম সেই স্বপ্নটাকেও হত্যা করে হয়েছিল সেদিন। আসলে সেদিন ঘাতকরা শুধু একজন শেখ মুজিবকেই হত্যা করেনি, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে হত্যা করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণীত করার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিল না শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার খবর শোনার। কারণ, তিনি শুধু একটি দেশের রাষ্ট্রপতি বা রাজনৈতিক নেতা নন, দেশের সব মানুষের আস্থার ব্যক্তিত্ব। আসলেই তার মতো ব্যক্তিকে যে হত্যা করা সম্ভব হবে সেটি কল্পনাও করতো না বাংলার সাধারণ মানুষ। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে যারা কুশীলব ছিলেন তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত