সোমবার, মে ২০, ২০২৪

মিঠাপুকুরে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মারপিট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

আপডেট:

 

মোঃ রতন বাবু মিঠাপুকুর প্রতিনিধিঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বলদীপুকুর শাহ আবুল কাশেম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হলে ঢুকে কয়েকজন ছাত্র ও এক শিক্ষককে মারপিট করেছে বহিরাগত লোকজন। এছাড়াও তারা হলে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীদের খাতা ছিড়ে ফেলে এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। তবে বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করলেও চুড়ান্ত কোন সমাধান দিতে পারেনি পুলিশ। রবিবার সকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে জানা গেছে, গত শনিবার বলদীপুকুর শাহ আবুল কাশেম দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রদের সাথে ৭ম শ্রেণির ছাত্রদের মাঝে সামান্য মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ রবিবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে ৭ম শ্রেণির ছাত্ররা বহিরাগত বড় ভাইদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। এসময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য শাহিনুর রহমান ও তার ভাই বাদশা মিয়াসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন লোক তাদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। একপর্যায়ে তারা দলবলসহ পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে ১০ম শ্রেণির ছাত্র জিহাদ হাসানের খাতা ছিড়ে ফেলেন। এতে অন্যান্য ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোখতার হোসেন ও কয়েকজন ছাত্র আহত হয়। আহতরা হলেন, জিহাদ, উজ্জল, মামুন, রিয়াদ প্রমূখ তারা সকলে ১০ শ্রেণির ছাত্র।

এদিকে এ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলাম আজকে পরীক্ষা দিতে না আসলেও পরীক্ষা শেষের দিকে বহিরাগত যুবক রনি মিয়াসহ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। সুযোগ বুঝে ১০ম শ্রেণির ছাত্র ময়নুলকে দেখা মাত্র অতর্কিত হামলা চালায় এতে ময়নুলের বাম দিকের চোখের পাশে মারাত্মকভাবে যখম হয়ে রক্তাক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের দপ্তরি মতিয়ার রহমান বলেন, হঠাৎ করে অনেকগুলো লোকজনকে বিদ্যালয়ে দেখে আমি একাডেমিক ভবনের মুল গেটে তালা দেই। কিন্তু তারা আমাকে মারপিট করে চাবি ছিনিয়ে নেয়। আমি চাবি রক্ষার চেষ্টা করলেও আমার হাতে কামড় দিয়ে তারা চাবি ছিনিয়ে নিয়ে উপরে উঠে।

অভিযুক্ত শাহিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে মিমাংসা করার সিন্ধান্ত হয়েছে। সমস্যা যখন সমাধানের পথে তখন আমার আর কিছু বলার নাই।

এ বিষয়ে বলদীপুকুর শাহ আবুল কাশেম দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোখতার হোসেন বলেন, সকালে পরীক্ষা চলছিল হঠাৎ করে ৭ম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র তাদের অভিভাবক ও বহিরাগত লোকজনসহ ১৫ থেকে ২০ জন মিলে পরীক্ষার কক্ষে ঢুকে খাতা ছিড়ে ফেললে আমি বাঁধা দেই। এরপর তারা ১০ম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রকে মারপিট করে বাহিরে নিয়ে যেতে চাইলে আমি তাদের পথরোধ করি। এসময় তারা আমাকেও ধাক্কা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের মাঝে মারপিটের ঘটনায় ১০ শ্রেণির ছাত্ররা একটা অভিযোগ দিয়েছিল। আজ সে বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে বসার কথা ছিল কিন্তু তার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ওসি সাহেব এসেছেন আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে আজকের বিষয়ে সিন্ধান্ত নেব।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, খবর পাওয়া মাত্র আমি নিজেই ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করেছি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত