শনিবার, মে ২৫, ২০২৪

মিঠাপুকুরে বোনের রহস্যজনক মৃত্যুর বিচার চেয়ে ভাইদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট:

 

মিঠাপুকুর প্রতিনিধিঃ

বিজ্ঞাপন

রংপুরের মিঠাপুকুরে ছয় সন্তানের জননী শাহজাদী বেগমের (৪৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ভগ্নিপতি এবং ভাগ্নেদের দায়ি করে ন্যায় বিচার নিশ্চিতে ভাইয়েরা সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় মৃত-শাহাজাদী বেগমের ভাই,ভাতিজা এবং স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (১৩ মে) সকাল ১০ঃ ঘটিকার সময় “মিঠাপুকুর রিপোর্টার্স ইউনিটি” কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃত-শাহজাদী বেগমের ভাই এবং তার স্বজনরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মিঠাপুকুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতিঃ রুবেল হোসাইন (সংগ্রাম),সাধারণ সম্পাদক- আমিরুল কবির সুজনসহ সংগঠনের অনান্য নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন

মিঠাপুকুর রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৃত-শাহজাদী বেগমের বড়ভাই মোঃ ফুলবাবু মিয়া এবং ছোটভাই বেলাল মিয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। আমার বোন শাহজাদী বেগম তার পাঁচ ছেলে এবং এক মেয়েকে লেখাপড়া করাতে মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। ছেলেরা স্ব-শিক্ষিত হয়ে চাকরি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করার পর তাদের স্ত্রীদের কথায় নিজেদের মাকে পরিবারের বোঝা মনে করতেন, এবং বিভিন্ন সময়ে স্বামী-আমির হোসেন ও তার সন্তানরা কর্তৃক শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতেন।

একাধিকবার তাদের অত্যাচার আর পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শাহজাদী বেগম,আমাদের ভাইদের বাড়ি আফজালপুর গ্রামে চলে এসেছিলেন। কয়েকবার গ্রাম্য সার্লিশ করে তার ছেলেরা এবং স্বামী আমির হোসেন,শাহজাদী বেগমকে অত্যাচার করবেনা মর্মে অঙ্গিকার দিয়ে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। শাহজাদী বেগম সম্পূর্ণ সূস্হ্য এবং স্বাভাবিক ছিলেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে ফুলবাবু মিয়া জানান, ঘটনার দিন, মঙ্গলবার (১০-মে) তিনি ধান কাটা শ্রমিক হিসেবে ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে বিকালে বাড়িতে এসে জানতে পারেন, তার বোন শাহজাদী বেগম, স্ব-ইচ্ছায় বিষপানে আত্মহত্যা করেনি! তার স্বামীঃ আমির হোসেন ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা- সাইদুল ইসলাম,সাজ্জাদ হোসেন এবং তাদের স্ত্রীরা সহ প্রচুর মারধর করে অচেতন অবস্থায় মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছেন। তার দাবি,ঘটনার সময় শতাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থিত ছিলো। তিনি বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। শেষে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ তাদের কথা শুনেনি।

বেলাল হোসেন জানান, আমার বোনের মৃত্যুর দিন, মারপিট সহ্য করতে না পেরে জীবন বাঁচাতে বাড়ির পাশে পালিয়ে যেতে ধরলে সেখান থেকে আমির হোসেন এবং ছেলে সাজ্জাদ হোসেন সহ তার ছেলেদের স্ত্রী’রা জোরপূর্বক মারতে মারতে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। সেটা স্হানীয় লোকজনসহ আশপাশের শত-শত লোকজন দেখেছে। এটা পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমরা আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করতে গেলে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। আমরা ন্যায় বিচার চাই!

মৃত-শাহজাদী বেগমের বড়ছেলে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম জানান, আমার মা মানসিক ভারসাম্যহৃীন ছিলো। তার মৃত্যুর ঘটনায় আমরা কেউ দায়ি নই। যখন তিনি বিষপান করেন তখন আমরা বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলাম না। তার দাবি, মামাদের কারনে লাশের পোস্ট মর্টেমসহ বিভিন্ন কারনে তাদের মোটা অংকের টাকা ব্যায় করতে হয়েছে। তবে কেউ বাড়িতে না থাকলে কেনো তাদের মা,শাহাজাদী বেগম বিষপানে আত্মহত্যা করলেন! তার সদুত্তর কেউ দিতে পারেনি। অন্যদিকে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের প্রাথমিক তথ্যে শরীরে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, যাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছে তারা কেউ ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলোনা। মৃতের ভাইদের অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়নি। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনদের দাবি, শাহজাদী বেগম বিষপান করে আত্মহত্যা করে থাকলেও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের মামলা গ্রহন করা হউক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত