বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬

ছাত্রলীগের নেতাদের কক্ষ ভাংচুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ছাত্রীলীগ বিতাড়িত নড়েচড়ে বসেছে আওয়ামীলীগ

আপডেট:

দলের নেতাদের কয়েকজন জানিয়েছেন ‘ছাত্রলীগ যে পারবে না বা তাদের যে সেই সক্ষমতা নেই’- সেটা কারো চিন্তাতেও আসেনি। যদিও একজন নেতা বলেছেন যে ‘ছাত্রলীগকে নিয়ে দুদিন ধরেই একটি প্রচারণা চলছিলো এবং তাদের কোটা আন্দোলনকারীদের প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছিলো আন্দোলনকারীদের একাংশ। ফলে তাদের সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। বিশেষ করে সরাসরি সহিংসতা জড়িয়ে যেন না পড়ে সেটি খেয়াল রাখতে বলা হয়েছিল’।তবে আওয়ামী লীগের মধ্যম পর্যায়ের একজন নেতা বলেছেন, ‘ছাত্রলীগ তো বলেছিলো টেনশন না করার জন্য। কিন্তু তারা তা পারেনি। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে তো মহানগর ছাত্রলীগ গিয়ে সহায়তা করতে হয়েছে।ল যদিও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলছেন যে তারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকে আলাদা করে দেখেন না। তার দাবি ‘এখন সব ছাত্রদল ও শিবিরের সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব করেছে।আর এ অবস্থায় দলের নেতারা যে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা হলো, সরকার এখন ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’ অবস্থায় আছে এবং এখানে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেই তারা মনে করেন। সে কারণেই পুরো মহানগর আওয়ামী লীগকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের দলীয় সভায় বলেছেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান। একজন সিনিয়র নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ছাত্রলীগের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে এবং তাদেরকেও যতটা ‘কঠোর হওয়া দরকার’ তাই হবার নির্দেশনা দেয়া হবে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, আগে চিন্তা ছিল যে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আসার পর আলোচনার মাধ্যমে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।এখন সব সমাধান হয়ে যাবে। আইনগতভাবে চাপ তৈরিতে যা করার দরকার সেটাই করা হবে,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা বিষয়ে উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তারা কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। পরে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সেদিন রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। চীন সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বলেন, ‘কোটা নিয়ে আদালত থেকে সমাধান না আসেলে সরকারের কিছু করার নেই।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?’সেই বক্তব্যের জের ধরে সেদিন মধ্যরাতে বিক্ষোভ করতে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, সিলেটের শাহজালাল ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জের ধরে তারা শ্লোগান দিতে থাকেন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সহিংসতার পর মঙ্গলবার সেই সহিংসতা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষে ছয় জন নিহত হয়।মঙ্গলবার রাতেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের বের করে দেয় আন্দোলনকারীদের একাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কক্ষগুলোতে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়।
সূত্র : বিবিসি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত