শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

হতভাগা জমায়েতে ইসলাম! পর্ব -২ 

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তারিখ ঃ ১০.০৮.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

পূর্ব প্রকাশিতের পর ঃ

বলেছিলাম, অধ্যাপক গোলাম আযম “ভাষা সৈনিক” ছিলেন তা ইতিহাস স্বীকৃত। ১৯৪৮ সালে ২৭ শে নবেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পূর্বপাকিস্তান ছাত্র সন্মেলনে যোগ দেন এবং তাকে দেয়া স্মারক “অধ্যাপক গোলাম আযম” পাঠ করেন (তথ্য ঃ বদরউদ্দিন উমর এর ভাষা আন্দোলন ১ম খন্ড বই ও অধ্যাপক গোলাম আযমের “যৌবনে যা দেখেছি” বইর ৯৬ পৃঃ)

 

জামাতে ইসলামের কার্যক্রম চলাকালীন ‘৬৯ এর গনঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং তিনি সামরিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সামরিক প্রধান “ইয়াহিয়া খানের” হাতে ক্ষমতা প্রদান করেন! দুঃখের সাথে বলতে হয় পাকিস্তানের সেই ধারাবাহিকতায় আজ-ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সামরিক সরকার চলে আসছে! এ বিষয় ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’ উপদেষ্টা বলা যায় ফলে আজ ৭০০ টাকা চালের কেজি ৮০০ টাকা আটা পাকিস্তানে ! চীন দুবার, সৌদি আরব দুবার লোন না দিলে পথে বসে যেতো, আইএমএফ তো লোন না দিয়ে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলো ঠিক একই সময় শেখ হাসিনা কে চাওয়া মাত্র লোন দিয়ে তুষ্ট করলো!

প্রিয় পাঠক, ইয়াহিয়া খান উর্দি পরে ক্ষমতায় এসে দেখলেন সামরিক শাসন চালানো সম্ভব না তাই তিনি ১৯৭০ সালে ৭ ই ডিসেম্বর নির্বাচন দিলেন এবং পাকিস্তান বা বাংলাদেশ আমলে ও এত নিরপেক্ষ নির্বাচন আর হয় নাই! আওয়ামী বিরোধী দলগুলো যেমন মুসলিম লীগ সবুর ও কাইয়ুম, জমিয়াতে উলামা, জামাতে ইসলাম, সতন্ত্র, ন্যাপ ওয়ালি সব মিলে প্রায় ৩৭ আসন পেয়েছিল। সব কয়টা ইসলামি দল একত্রে নির্বাচন করলে হয়তো আওয়ামীলীগ একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা না ও পেতে পারতো!

 

প্রিয় পাঠক, একজন শেখ হাসিনা ভুল করেন তা নয়, স্বাধীনতা উত্তর পাকিস্তানের ভুল ছিলো চরম মার্জনা অতীত! তখন ইয়াহিয়া ভুট্টা হার্ড লাইন না গিয়ে একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে হয়তো মাত্র ২/১ বছরে বঙ্গবন্ধু জনসমর্থন হারাতেন! পশ্চিম পাকিস্তানে মুজিবের কোন আসন ছিলো না, পূর্ব পাকিস্তানে ৩৭ টা আসন বিরোধী দলের, জুলফিকার আলী ভুট্টার ৮১ আসন মিলে মোট ১১৮ আসন বিরোধী দলে থাকলে রোজ সংসদে মুজিব বিরোধিতার সম্মুখীন হতে থাকতেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে ২/৩ বছর পর সামরিক শাসন বা নির্বাচন দিলে পাকিস্তান ভাগ হতো না! হার্ড লাইন কখনও ভালো ফল বয়ে আনে না! শেখ হাসিনা তার বড় উদাহরণ!

 

১৯৭১ সালে জামাতের ভুমিকা দুই ভাবে দেখা যায়। আমি লেখক হিসাবে বলবো, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জন্য জামাত সমমনা দের নিয়ে পাকিস্তান ভাঙতে চায় নাই এবং তার জন্য যা করনীয় সর্বশক্তি দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। আমি “গোলাম আযম সাহেবকে” রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্বীকার হিসাবে বলতে পারি! কিন্তু জামাতের দুর্ভাগা এজন্য বলি, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ক্ষুন্ন হয়েছে! তখন জামাতের ক্ষমতায় আসা প্রয়োজন ছিলো। কারন জামাতে ইসলাম মাত্র সাড়ে তিন বছর আগে আওয়ামীলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো! কিন্ত আশির দশকে মার্কিন শত্রু দেশগুলোর প্রধান কে সাধারণত সামরিক ক্যুর মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা ছিলো তার নীতি তাই তারা রাজনৈতিক দল পরিশ্রমি “জামাত কে” মূল্যায়ন করে নাই। পরপর দুই সামরিক সরকার জিয়া এরশাদ অতিবাহিত করতে করতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে গেছে, বেঁচে থাকতে অন্যান্য উচ্ছিষ্ট ভোগী দল যাদের মেজর জিয়া এরশাদ সংযুক্ত করেছিলেন তেমন মূল্যে সামরিক নির্ভরশীল হয়ে “জামাত” তার একক রাজনৈতিক রূপ বিকৃত করতে বাধ্য হয়েছে। একটা সুগঠিত সুসজ্জিত অন্যান্য দল থেকে সৎ নিবেদিত কর্মী থাকতে দলটাকে পরগাছা হয়েই আজ-ও বিএনপি কে মুল গাছ ভাবতে হয়! বিএনপি নির্ভর দল হিসাবে সবাই জানে। একক রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন ও জনগনের কাছে যাওয়ার সময় এসেছে, এসুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জামাতে ইসলাম একদিন একক ভাবে ক্ষমতায় যেতে পারবে আমি মনে করি!

শেষ।

অধ্যাপক গোলাম আযম।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত