ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। আন্দোলনকালে ক্ষমতাকে আঁকড়ে রাখতে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সম্প্রতি জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও দলটির প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী চরম ও বর্বরোচিত অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনের পর প্রশ্ন জেগেছে- বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কি আর রাজনীতি করতে পারবে? নাকি নিষিদ্ধ করা হবে? দলটির ভবিষ্যৎ কী? শুধু তাই নয়। ভারতে আশ্রিত দলটির প্রধান শেখ হাসিনারই বা ভবিষ্যৎ কী? তিনি কি আদৌ আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন? সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার ফিরে আসা এককথায় অসম্ভব। অবশ্য দৈব কোনো ঘটনায় সেই প্রেক্ষাপট তৈরি হলে ভিন্ন কথা। সেই সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। সরকারের দায়িত্বশীলদের কথার সুরও অভিন্ন। এক্ষেত্রে বিএনপি অবশ্য কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো দলের নিবন্ধন থাকবে কিনা বা কোনো দল নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটা বিএনপির বিষয় না। সেই সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে অবশ্য কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, এতে করে বাংলাদেশে বহুদলীয় গন্ত্রতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তন বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ভোটারদের একটা বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন।এদিকে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের বিচারকাজ চলমান। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচারকাজ চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হবে।গতকাল বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেছেন, বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ভারত সরকারকে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় সিদ্ধান্তেই এ কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারত এখনও কোনো উত্তর দেয়নি। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন যে কোনো মানুষের বিবেককে নাড়া দেবে। প্রতিবেশী ভারতও বিষয়টি আমলে নিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।গতকালই ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে ব্রিটিশ সাংবাদিক বেকি এন্ডারসন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্ন রাখেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো সাড়া মিলেছে কিনা? এর জবাবে ড. ইউনূস বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হত্যা, গুম, নির্যাতন- কীভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশে শিক্ষার্থীদের গুলি করে মারা হয়েছে, সবকিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। সবকিছু রেকর্ডে আছে এখন। সুতরাং আমাদের এখন কারও কাছে গিয়ে কী কী হয়েছে জানানোর প্রয়োজন নেই।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দলের প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অকাট্য দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, অনেক কিছু বিবেচনার ভিত্তিতে সরকারকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অধিকার আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো এ পর্যন্ত কোনো দিন ক্ষমাও চাইল না। তারা তো ভুলও স্বীকার করল না। তারা বরং আরও আগ্রাসী। এখন সময়ই বলে দেবে।
আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার কি হবে
আপডেট:

