বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২২, ২০২৬

প্রাণহানির ঘটনায় কার্যত দোষ স্বীকার করলেন : শেখ হাসিনা

আপডেট:

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নৃশংসতার দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সহিংসতা (অভ্যুত্থান) মোকাবিলায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্য অবশ্যই ভুল করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন হাসিনা। হিন্দুস্তান টাইমসের পাশাপাশি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আনন্দবাজারও শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এসব সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে ই-মেইলের মাধ্যমে হাসিনা তাদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যদিও ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের ই-মেইল সংগ্রহ করা হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি এসব সংবাদমাধ্যম। আনন্দবাজার দাবি করেছে, শেখ হাসিনা অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন। শুক্রবার ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বও দায়ী’, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনপর্বে হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রথমবার ‘দোষ স্বীকার’ করলেন হাসিনা- শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। সেখানে বলা হয়, গণবিক্ষোভের জেরে ক্ষমতা হারানোর ১৫ মাস পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দায় এড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় কার্যত দোষ স্বীকার করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গণ-অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নে নির্দেশ দেয়াসহ নানা অপরাধের দায়ে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন শেখ হাসিনা। এ মাসেই তার বিরুদ্ধে রায় আসতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নির্দেশেই নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে আদালতে প্রমাণ হাজির করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ৩৬ দিনের আন্দোলনে অন্তত ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপে যে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত ছিলাম- এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে একটি অনির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে, যারা তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চুপ করিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে সরকারের সরাসরি নির্দেশ বলে ব্যাখ্যা করাটা একটি গুরুতর ভুল ব্যাখ্যা। হাসিনা বলেন, সহিংসতা মোকাবিলায় আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের পক্ষ থেকে অবশ্যই ভুল হয়েছিল। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মিনিট-টু-মিনিট কৌশলগত নির্দেশ দিচ্ছিলাম- এমন দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে মৌলিকভাবে ভুল বোঝাবুঝিকেই নির্দেশ করে। আমি পুনরায় বলছি, আমি কখনই জনতার ওপর গুলি চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে অনুমতি দেইনি। তিনি আরও বলেন, গত গ্রীষ্মের বিক্ষোভে প্রতিটি প্রাণের ক্ষতিতে আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। তখন ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং সহিংস হয়ে ওঠে। আমাদের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল প্রাণহানি কমানোর পাশাপাশি সংবিধান রক্ষা করা।অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা দাবি করেন, তার দল কখনো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেনি। দেশের সবচেয়ে পুরনো এবং জনপ্রিয় দলটিকে যদি অংশগ্রহণে বাধা দেয়া হয়, তাহলে গণতন্ত্রের কোনো আশা থাকে না। এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সংবিধান এবং ১৭ কোটি মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে কোটি কোটি সাধারণ বাংলাদেশি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। একই প্রসঙ্গে হাসিনা আরও বলেন, যদি জনগণ তাদের পছন্দের দলকে ভোট দিতে না পারেন, তাহলে তারা কেউই ভোট দিতে যাবেন না। ফলে জনগণের প্রকৃত সম্মতির ভিত্তিতে সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ। যা হবে এক মর্মান্তিক ঘটনা। আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আইনগত ও কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার কথা জনান শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত