মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬

সুনির্দিস্ট ৮টি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

আপডেট:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগনের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করলে বিভিন্ন সেক্টরে ৮ টি সুনির্দিস্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে। ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী মূলদল,অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর জন্য ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থান, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, ক্রীড়াসহ এই ৮ টি সুনির্দিস্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।এই পরিকল্পনাগুলো হলো-১. বাংলাদেশের কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। কৃষক কার্ড থাকলে হাতে সেবা পাবেন সাথে সাথে, ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ, কিটনাশক, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সুবিধা, স্বল্প ব্যয়ে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা নিশ্চিত হবে। কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য,মোবাইলে ফসলের চিকিৎসা সুবিধা,মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন।দেশব্যাপী কর্মসংস্থান: সবার জন্য সমান সুযোগ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা: প্রত্যেক জেলার ঐতিহ্য ও বিখ্যাত পণ্যের ভিত্তিতে কুটির শিল্প ও এসএমই খাত বিকাশে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, অ্যামাজন-আলিবাবাসহ বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে বেসরকারি শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক উদ্যোগ নেওয়া, এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্বাচ্ছ, দলীয়করণ মুক্ত ও ব্যবসাবান্ধব করা। মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ: বিসিএস এবং সব সরকারি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, যেন সকল বৈষম্য ও দলীয় প্রভাব মুক্ত স্বচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে। সাথে সমন্বয় রেখে সরকারি চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, শিল্পায়ন, আইটি,অবকাঠামো, পরিবেশ ও জ্বালানিসহ সব খাতে বিএনপির পরিকল্পিত প্রোগ্রাম ও প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে লক্ষ-লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন শিল্প:সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং, ইন্টিলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টরসহ আইটি সেক্টরে নতুন শিল্প গড়ে তুলে সরাসরি ড্যান্সিং, ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আট লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা।দেশব্যাপী কর্মসংস্থান: সবার জন্য সমান সুযোগ: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সুবিধা প্রদান করা হবে। ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য পেপালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করে বৈশ্বিক অর্থ লেনদেন, কেনাকাটা, বিল ও ফি ডিজিটালভাবে সহজ করা, এবং বাংলাদেশ ও বিদেশের ব্যাংকের ব্যবসার নিয়মতান্ত্রিক পেমেন্ট ও মানি ট্রান্সফার সুবিধাজনক করা।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান: গ্রামের শিক্ষাহীন, গৃহিণী, প্রবীণ, ও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রোগ্রাম চালু করা, যার মধ্যে থাকবে হস্তশিল্প, কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কম্পিউটার ও ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ, এবং তাদের প্রদান করা হবে সুলভ হারের মাইক্রো-ক্রেডিট ও সরঞ্জাম সহায়তা। অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে সহযোগিতা:রিকশাচালক, দিনমজুর, হকা ফুটপাত বাবসায়ী ইত্যাদি অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট সেক্টরে ক সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সেবা যৌক্তিক মজুরি নিশ্চিত কর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে দৈনন্দিন আয়ের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান।দেশব্যাপী কর্মসংস্থান: সবার জন্য সমান সুযোগ। সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা: সরকারি অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ নির্দিষ্ট জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট চালু করে তথ্যের আদান-প্রদান, আধুনিক সেবা গ্রহণ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সহজ করা। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ: দেশব্যাপী বিদেশি ভাষা শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ চালু করা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরে ২০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা এবং বিদেশ গমনের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা প্রদান। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সেন্টার:সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান, এবং ক্যারিয়ার সেন্টায় প্রতিষ্ঠা করা যার লক্ষ্য ক্যাম্পাসভিত্তিক জব ইন্টারভিউ, ইন্টার্নশিপ ও অ্যাপ্রেন্টিসশিপ আয়োজন করা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত