জুলাই বিপ্লবের পরও শিক্ষা খাতে বেশুমার দুর্নীতির জন্য সরাসরি দায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়েরকে অবশেষ অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বই ছাপার কাগজ কেনাকাটায় কমিশন বাণিজ্য, সরকারি কলেজে পদায়নে বাণিজ্য, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোয় বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও বেশুমার দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন এই প্রতিবেদন (রাত ৯টা) লেখা পর্যন্ত জারি হয়নি। গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন সিদ্দিক জুবায়ের। মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।জানা গেছে, সোমবার রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় সারা দেশ যখন শোকে স্তব্ধ, তখনই মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের প্রস্তাব দেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। প্রথমে সেই প্রস্তাব নাকচ করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়ের। এমন সিদ্ধান্তের জেরে রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাত ২টায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এই ঘটনায় গতকাল সচিবালয় ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। পরে সিদ্দিক জুবায়েরকে অপসারণের কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘শুধু পরীক্ষা স্থগিতের ইস্যুতে নয়, গত ১০ মাসের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল সরকার। বিশেষ করে গত বছরের বই ছাপার জন্য ৩০০ কোটি টাকার কাগজ কেনাকাটায় কমিশন বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এই সচিব। এর আগেও দুই দফায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও সরকারের দুজন উপদেষ্টার হস্তক্ষেপের কারণে সম্ভব হয়নি।

