বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ছে

আপডেট:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তার বেতন বাড়ছে। শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম গ্রেড করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে বিভাগীয় উপপরিচালক পর্যন্ত সব কর্মকর্তার বেতন এক গ্রেড করে উন্নীত করার জন্য আগামী সপ্তাহে সুপারিশ করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। এ নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের (এইউইও) মধ্যে। কারণ, বর্তমানে এইউইওদের বেতন স্কেলও ১০ম গ্রেডে। তদারকি কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের একই গ্রেডে অবস্থান প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করছে অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকরা রয়েছেন ১৩তম গ্রেডে। বেতন কাঠামোয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে তিন ধাপ পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। টাকার অঙ্কে এ ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ইনক্রিমেন্টসহ প্রায় ১৫ হাজার।

এ ব্যবধানকে ‘বৈষম্য’ হিসেবে দেখছেন সহকারী শিক্ষকরা। এ অসন্তোষ দূর করতে সরকার বেতন গ্রেড উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ও এতে সায় দিয়েছে।
জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গতকাল বৃহস্পতিবার সমকালকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদনাম পরিবর্তন করে ‘শিক্ষক’ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। আর ইউএপিইও, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিইও), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) এবং বিভাগীয় উপপরিচালকদের (ডিডি) বেতন স্কেল এক ধাপ উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
মহাপরিচালক জানান, প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার পর অর্থ উপদেষ্টা, অর্থ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, তিনিসহ বসে বেতন বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরেন। এতে অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিবাচক সায় দিয়েছে। নতুন পে-কমিশনের কাছে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে।বেতনবৈষম্যে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জানা গেছে, ২০১৩ সালে এক যৌথ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা ও দুই ধাপ গ্রেড উন্নীত হন। সহকারী শিক্ষকরা তখন এক ধাপ উন্নীত হন। এর পর থেকে দুই পক্ষ গ্রেড বাড়ানোর দাবিতে আলাদা আন্দোলন শুরু করে।২০১৯ সালে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট করেন। তারা ২০১৪ সাল থেকে গেজেটেড মর্যাদাসহ ১০ম গ্রেড দাবি করেন। আদালতে এটা মঞ্জুর হয়। একই সময় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড দাবিতে আরেকটি রিট করেন। এর শুনানি হয়নি। ফলে গ্রেড ব্যবধান তিন ধাপে পৌঁছেছে।এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ সমকালকে বলেন, প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেড পাওয়ায় আমরা খুশি। এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে সময় এসেছে বৈষম্য নিরসনের। এ জন্য সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দিতে হবে।তিনি আরও জানান, ১১তম গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড সমস্যা এবং শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে আগামী ৩০ আগস্ট ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকারী শিক্ষকদের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন তিনি।এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরে আলম সিদ্দিকী রবিউল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত পরামর্শক কমিটি প্রস্তাব দিয়েছিল চাকরির শুরুতে ১২তম ও চার বছর পূর্তিতে ১১তম গ্রেড দেওয়ার। কিন্তু আমরা চাই শুরুতে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত