মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

ফেনী সহ সারাদেশে ক্ষুদ্র ঋণের ভারে অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট:

বাংলাদেশে এখন নানা কৌশলে সুদের কারবার চলে আসছে। আগে মহাজনের সুদের জন্য মানুষের উপর অমানবিক নির্যাতন হতো তা বর্তমানেও চলছে। তবে এখন মহাজনদের রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতা করে। এটির নব্য সংস্করণ এনজিও। কৃষক ক্ষুদ্র ব্যবসায়িই, গৃহিণীদের টার্গেট করা হয়। ফেনী ও তার আশেপাশে জেলা গুলোতে শক্তি ফাউন্ডেশন, আশা, অনেক গুলো এনজিও ঋণ বিতরণ করে আসছে। এই এনজিও গুলো প্রথমে তিন কিস্তির টাকা কেটে রাখে ফলে যে ঋণ গ্রহীতা সে প্রথম থেকে বিপাকে পড়ে যায়। এই নব মহাজনদের সুদের হার ৩০ শতাংশ হয়ে থাকে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, এনজিও ব্যাুরু থেকে ৪ শতাংশ হারে
ঋণ নিয়ে থাকে। অনেকে প্রলুব্ধ করে কিস্তি জালে পেলে তাদের জীবনে নরক বানিয়ে পেলে। সরকারের কোন তদারকি নেই। একের পর এক মৃত্যু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ঋণের চাপে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পবা, মোহনপুর ও দুর্গাপুর উপজেলায়। এর মধ্যে মোহনপুর উপজেলার কৃষক আকবর শাহ, চারঘাটে মাছচাষি আবদুল কুদ্দুস, পবার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকার অটোরিকশাচালক মো. শামসুদ্দিন, দুর্গাপুরের জয়নগর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আবু বাক্কার, গোদাগাড়ীর গোগ্রাম এলাকার মো. মোমিনুল, দুর্গাপুরের সিংগা গ্রামের রেজিয়া বেগম ঋণের চাপে আত্মহত্যা করেছেন। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট পবার বামনশিকড় গ্রামের কৃষক মিনারুল স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন। সরকারের দ্রুত বিষয় টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরি।

ঋণের জন্য ঘটেছে হত্যার ঘটনাও। ঋণের টাকা শোধ না করায় হত্যার শিকার হন বেলনা গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান। গত ১৪ আগস্ট রাতে হাত-পা বেঁধে ফজলুর মুখে বিষ ঢেলে দেয় সুদ কারবারি ধুলু মিয়া। মৃত্যুর আগে ফজলু তা ভিডিও বার্তায় বলে যান। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলে পুলিশ ধুলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। বিভিন্ন উপজেলায় ঋণের জাল এমনভাবে বিস্তৃত হয়েছে যে, গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন কেউ কেউ। কারও কারও স্ত্রী-সন্তানও পরিবার ছেড়ে চলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকের দাবি উঠেছে। কিন্তু গোটা বিষয়টির মধ্যেই যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে, তা টের পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথাতেই। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরা বেগম বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্রঋণের অনুমোদন দিই না। আমরা এর খবরও রাখি না। পবা মোহনপুরে ঋণের চাপে মানুষ মরেছে শুনেছি। কিন্তু এর দায় আমাদের নয়। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনুমোদন দিই। পরে তারা এমআরএ, এনজিও ব্যুরো, জয়েন্ট স্টক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালায়। ঋণ নিয়ে আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’ এই মহাজনদের থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত