মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

দল ত্যাগি নেতারা

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ০৭.০৯.২০২৩

 

বিজ্ঞাপন

রাগ বিরাগের বশবতী হয়ে, স্বার্থ, অর্থ বিভিন্ন ভাবে রাজনৈতিক নেতারা নিজ দল ত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দেন, কেউ কেউ নতুন দল গঠন করেন! আমার দীর্ঘ জীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সবসময় ছিলো বাস্তবেও লেখালেখি তে আজও আছি! লিখতে গেলে কলমকে নিরপেক্ষ রাখি মাঠে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তিকে সমর্থন করি! কোন দলত্যাগিকে ভালভাবে দাড়াতে দেখি নাই বরং অখ্যাত কুখ্যাত হতে দেখেছি। উচ্ছিষ্ট ভোগী হতে দেখেছি! অধিকাংশ যারা নিজেরা দল তৈরি করেছেন তাদের দেখেছি “অন ম্যান অয়ান পার্টি” হয়ে যেতে! এছাড়া অনেক বড় দল করেও অন্যের ঘাড়ে সওয়ার হতে দেখেছি ক্ষমতার লোভে।

 

ধরুন আমার এককালের শ্রদ্ধেয় ডাঃ বদরুদ্দোজা, ছিলেন বিএনপি সরকারের প্রেসিডেন্ট পাগলে কামড়ালো, ইচ্ছে হলো শেষ বয়সে হজ্ব করার মত মুজিবের মাজার টা জিয়ারতের আবার বাঁধা পেয়ে নিরপেক্ষ হতে জিয়ার মাজার জিয়ারতে অস্বীকার!

আরে বাবা, বন্দুক কামান নিয়ে ক্ষমতায় আসা জিয়া ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সায়েম কে না বলে ১৯৭৭ সালের ২১ শে এপ্রিল রেডিওতে যেয়ে নিজে নিজেকে সামরিক প্রধান ও মার্শাল এ্যাডমিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। সাংবিধানিক বাধ্য বাধকতা লেফট রাইট করা জিয়া জানতো ও না আর নিরস্ত্র সায়েমের সন্মানের মূল্য দেয়ার মত ভদ্রতা জ্ঞান তার ছিলো না। তাকে নিয়ে আপনার বাবা কফিলউদ্দিনের মগবাজারে ১৬ (সম্ভবতঃ যে বাড়ীতে আমি তিনবার গেছি, এখানেই ডাক্তার চেম্বার ছিলো) নাম্বার বাড়ীতে বসে দল গঠন করে আপনি মহাসচিব হলেন! সেই দলের বসে জাতির জনকের বিরুদ্ধে হত্যার বিচার করা যাবে না ২২ জন জীবন দেয়া লোকের ইনডেমনিটি আইন পাশ করলেন!

আর ও কত আকাম কুকামে বৈধতা দিলেন, হঠাৎ মরনের ভয় কেন এলো, কেন নিরপেক্ষ হতে চাইলেন?

অপদস্ত হলেন, দল করলেন কিন্তু লোকে খেলো না কারন স্বাধীনতা বিরোধি, ভাসানীর চৈনিক নিয়ে জিয়ার দল করলেন তারা তো আপনার পরে আস্হা রাখতে পারে না, জিয়ার দল ছাড়বে কোন সাহসে। একব্যক্তি এক দলে পরিনত হলেন!

 

বিএনপি যারা ছেড়েছে বদরুদ্দোজা, কর্নেল ওয়ালী, সহ শত নেতা তারা নিজের কবর নিজে খূড়েছেন! তেমনি আওয়ামীলীগ মুজিব কেন্দ্রীক দল মাওলানা ভাসানী, আমেনা বেগম, থেকে জাসদের রব শাহজাহান শাহ মোয়াজ্জেম ইনু সবার আবার আওয়ামীলীগে এসে ক্ষমতার সাধ পেতে হয়েছে। মাহমুদুর রহমান মান্না জাসদ বাসদ বানালেন একা একা, ফিরলেন আওয়ামীলীগে আবার ডঃ কামালের সাথে, ২০১৮ নির্বাচনে ১১ টা থেকে ১২ টার ভিতর ৬০ হাজার ভোট পেয়েছেন তবুও বিএনপির সাথে গলা মিলায় বলেন রাতের ভোট, ভোটার বিহীন সাংসদ আওয়ামীলীগ এসব পাত্তা দেয় না কারন ভদ্রলোকেরা জানে বিরোধী দল নির্বাচনে না এলে

১. সরকারের দায়িত্ব নাই কাউকে তেল মেরে নির্বাচনে আনা!

২. বিরোধী দল মাঠে না থাকলে ভোটার প্রতিযোগিতা মূলক নির্বাচন মনে করে না তাই কেন্দ্রে যায় না, এটাই স্বাভাবিক!

৩. বিরোধী দল নির্বাচনে না থাকলে ১৬০ টা আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেন ৩০০ আসন ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারে তা গাল ভরে বলে বেড়াবার মত বিষয় না!

৪. ১৯৯৬ মের নির্বাচন যে নির্বাচনে বিএনপি তিনমাস ক্ষমতায় থেকে নেমে যেতে হলো ঐ নির্বাচন শুধু ভোটার বিহীন ছিলো না ভোট বাক্স বিহীন ছিলো। আওয়ামীলীগ ৭৫% কেন্দ্রের ভোট বাক্স কেড়ে নিয়ে পুড়িয়েছে বা নদীতে ফেলেছে, অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ভয়ে যান নাই!

 

মজার কথা আওয়ামীলীগ বাক্স বিহীন ভোট বা ভোটার বিহীন ভোট কোনদিন ও কোন বক্তৃতায় বিএনপির মত বলে বেড়ায় নাই বরং সাংগঠনিক শক্তিশালী জনশক্তি দিয়ে তিন মাসে বিএনপি সরকার কে টেনে নামিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য করেছে তত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে যোগ করে। অথর্বদের মুখ সার হয় তখন যখন বুদ্ধি জ্ঞান ও জনবলের পরিধিতে পারে না তখন ফালতু ভাঙা রেকর্ড বাজানো একমাত্র সম্বল হয়ে দড়ায়!

 

বিষয় ছিলো দল ত্যাগীরা, নমিনেশন পান নাই বলে পাবনার হাবিবুর রহমান হাবিব বিএনপি তে যোগ দেন! সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর বিএনপিতে যোগদানের পর সাংসদ হয়েছেন, আবার ফিরছেন আওয়ামীলীগে। ছাত্র লীগের কাউন্সিলে আসলেন শেখ হাসিনার সামনেই ধানের শীষ নিয়ে কিন্তু আমরা জানি রফাদফা হয়ে গেছে আওয়ামীলীগের সাথে।

 

শেষপর্যন্ত টিকে আছে বিএনপি আর আওয়ামীলীগ আর সব আটলান্টিকে ভাসমান! আজও ঘুরঘুর করেন এরা বিএনপি আওয়ামীলীগের আশেপাশে সব দলছুুটরা যদি উচ্ছিষ্ট চেটেপুটে খাওয়া যায়, মরার আগে মন্ত্রী খাতায় নাম লিখা যায়!

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালবাসেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত