বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ায় বর্ষাকালীন তরমুজ চাষে সফল চাষী পরিমল সরদার

আপডেট:

সুদীপ্ত মিস্ত্রী ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।

বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চাষীরা। কম খরচে বেশি ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান চাষি। তাদের সফলতা দেখে ‘অসময়ের’ তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেকেই। কৃষি বিভাগও হাইব্রিড থাই জাতের তরমুজ আবাদে কৃষকদের পরামর্শ, বিনামূল্যে সার, বীজ, নগদ অর্থ সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষি অফিস ও চাষিদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ডুমুরিয়া উপজেলায় আবাদকৃত ব্যাপক জমিতে বর্ষাকালীন তরমুজের চাষ হয়েছে। বিলের অসংখ্য মৎস্য ঘেরের পাড়ে মাচায় মাচায় বিশেষ জাতের বারোমাসি তরমুজ আবাদ করা হয়েছে।

এসব জাতের মধ্যে রয়েছে এশিয়ান-২, কানিয়া, মধু মেলা ও ব্ল্যাক বেরি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসবের মধ্যে এশিয়ান-২ বাংলাদেশি জাত। যা ওজনে প্রায় ৮-৯ কেজি হয়। এছাড়া মধু মেলা জাতের তরমুজের বাইরের অংশ হলুদ আর ভেতরের অংশের রঙ লাল, কানিয়া জাতের তরমুজের বাইরের অংশ ডোরাকাটা সবুজ আর ভেতরের অংশের রঙ হলুদ। এসব জাতের তরমুজ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। বিশেষ করে কানিয়া জাতের তরমুজ বেশি সুস্বাদু। এই তরমুজ চাষে খরচ কম, একর প্রতি মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা, কিন্তু বিক্রি হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বাজার দরও বেশ চড়া থাকায় কৃষকও খুশি।

বিজ্ঞাপন

সফল তরমুজচাষী ১৪ নং মাগুরখালী ইউনিয়নের বাগারদাইড় গ্রামের বাসিন্দা পরিমল সরদার। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ ও কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এবছর পঞ্চমবারের মতো বাগারদাইড় বিলের ২৩ বিঘা জমির ঘেরের পাড়ে ৩০০০ টি এসিয়ান ২ চারা রোপন করেন। রোপনের ৬০-৭০ দিনের মাথায় ফল কাটার উপযোগী হয়ে উঠে। তিনি মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খরচ করে প্রথম চালানেই ৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করেন। উৎপাদনকৃত তরমুজ গুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে পৌঁছায়। বিশেষকরে, ঢাকা,চাঁপাইনবাবগঞ্জ,যাএাবাড়ী,টাংগাইল সহ অনন্য এলাকায়।

১৪ নং মাগুরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব বিমল কৃষ্ণ সানা বলেন, তরমুজ শুধু গ্রীষ্মকালীন ফল নয়। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে বারোমাসি তরমুজ চাষে যেমন সফলতা পাওয়া যায়,সেটা চাষীদের জন্য অর্থনৈতিক সমস্যা দূরীকরনের অন্যতম ভূমিকা রাখে।

৯ নং ওয়ার্ড সদস্য শ্রী ধর্ম দাস রায় বলেন, পরিমল একজন সফল তরমুজচাষী ও ব্যবসায়ী। তার দেখাদেখী ওয়ার্ডের অনেক চাষীরা তরমুজ চাষে অাগ্রহী হচ্ছে। এটা একটি অল্প সময়ে অধিক অর্থ আয়ের অন্যতম মাধ্যম।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব পঙ্কজকান্তি মজুমদার বলেন, ‘তরমুজ এখন আর মৌসুমি ফল নয়, সারা বছরই তা চাষ করা যায়। বীজ বপনের ৪০-৫০ দিনের মাথায় ফুল আসে, আর ফুল থেকে পরিপুষ্ট তরমুজ হতে সময় লাগে ৭০-৮০ দিন। মোট ৮০-৯০ দিনের জীবনকাল। বাইরে অংশ কালো রং ও ভেতরের অংশ টকটকে লাল ব্লাক বেরি জাতের এ তরমুজ ওজনে প্রায় ৩-৪ কেজি হয়ে থাকে। এ উপজেলায় প্রথম উচ্চফলনশীল ফসল হিসেবে এই তরমুজের চাষে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। ফলে এলাকার অনেকে চাষীই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই তরমুজ উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত