রুহুল আমিন, নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে বোরো, নানা ধরণের সবজি ও আম মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (৩০ মার্চ) রাত ও রবিবার সকালে উপজেলার সর্বত্রই শিলাবৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাত ও রবিবার সকালে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সাথে শিলা পড়ে বসতঘর, ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার তালজাঙ্গা, রাউতি, ধলা, জাওয়ার, দামিহা, দিগদাউড় ও তাড়াইল-সাচাইল এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে বাড়ি-ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। বোরো ফসলের ক্ষতি ছাড়াও আমের মুকুল ঝরে গেছে। ক্ষতি হয়েছে শাকসবজিরও।
তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের ছবুরা বেগম বলেন, রাতে পয়লা বৃষ্টি পড়তে থাকলেও শিল আছিল না। কিছুক্ষণ পরেই শিল পড়া আরম্ভ হইছে। অনেকক্ষণ টানা পড়ছে। চাল ভাইঙ্গা ছিদ্রি কইরালছে। ঘরের ভিতরে শিল পড়ছে। একই গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, আমার সবজি ক্ষেতের গাছ মাটিতে মিশাইয়া ফালাইছে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, এইবার বোর ধান ফলন ভাল অইতো। অনেক শীষ বের হইছিল। কিন্তু শিলে অনেক ক্ষতি অইছে। শীষ পইরা গেছে। গাছে যেগুলান আছে ওইগুলাতেও ফলন অইব না। শিলের আঘাতের লাইগা টিকবো না। রাউতি গ্রামের কৃষক আবদুল আলী বলেন, বৃষ্টিটা বোরো ফসলের লাইগ্যা ভালই হতো। কিন্তু পাথর (শিল) পইরা ধান গাছের গজানো শীষ নষ্ট অইয়া গেছে। সেকান্দর নগর গ্রামের আফসার উদ্দিন জানান, আম গাছের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে আমের মুকুল ঝরে গেছে। মুকুল ঝরে যাওয়ায় আশানুরূপ আম হবে না। উপজেলার কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ২৫ শতাংশ বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বোরো জমি আমরা পরিদর্শন করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন কুমার সাহা জানান, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বোরো ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমের মুকুলের। বোরো ধানের তেমন কোনো ক্ষতির খবর আমরা পাইনি। প্রতিটি উপজেলায় খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।


