শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

ফেনী জেলার থানাগুলো এখনো সচল হয়নি

আপডেট:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগের পর ৫ আগস্ট ফেনীর চারটি থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওইদিন থেকে শুক্রবার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত টানা ৫ দিন থানায় নাগরিকদের সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম ৮ আগস্ট সন্ধ্যার মধ্যে দেশের সব পুলিশকে কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশনা দিলেও শুক্রবার দুপুরে ফেনী মডেল থানায় এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। ওই সময় থানার গেট বন্ধ এবং আনসার ও সেনা সদস্যদের থানা পাহারা দিতে দেখা গেছে। নাগরিক সেবা নিতে যারা আসেন তাদের থানার কার্যক্রম শুরু হলে আসতে বলা হয়। তবে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমীনসহ কয়েকজন পুলিশ অফিসার থানায় ছিলেন। তারা শ্রমিক দিয়ে থানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাচ্ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে ছাগলনাইয়া থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার গেটের পাশে গোল ঘরে পাঁচজন আনসার সদস্য পাহারা দিচ্ছেন। তবে কোনো পুলিশ অফিসার থানায় আসেননি। বিদ্যুতের লাইন বন্ধ থাকায় থানা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন।পাহারারত আনসার কমান্ডার আবদুস সবুর পাটোয়ারী বলেন, ‘ছাগলনাইয়া থানায় বসার মতো কোনো চেয়ার-টেবিলও নেই। সবকিছু ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে নষ্ট। মেরামত করে থানা প্রস্তুত না করলে পুলিশ এসে কোথায় বসে দায়িত্ব পালন করবে? নাগরিক সেবা নিতে কেউ এলে তাদের থানার কার্যক্রম শুরু হলে আসতে বলা হচ্ছে।শিক্ষক মহিউদ্দিন খোন্দকার ও স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, ‘ফেনী মডেল থানায় জিডি করতে এসেছিলাম। থানায় কেউ নেই। মূল গেট বন্ধ, আনসার ও সেনাবাহিনী পাহারা দিচ্ছে।’ দেখা যায়, পারিবারিক সমস্যা, মারামারি, জিডি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেবা গ্রহীতরা থানায় এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী অনেকে বলেন, ‘তিন দিন ধরে শিক্ষার্থীসহ আমরা থানা পাহারা দিয়ে রেখেছি। ছাত্র-জনতার পাশে আছি, তাদের সহযোগিতা করছি। আশা করি পুলিশ কাজে যোগদান করবে। থানা অচল হয়ে থাকলে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকব। কেউ একটি জিডিও করতে পারছেন না। থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য অসংখ্য লোক আছে। কিন্তু অভিযোগ নেওয়ার মতো কেউ নেই। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব কার্যক্রম চালু করা হোক।আনসার কমান্ডার মো. আবু তাহের বলেন, ‘স্থাপনা রক্ষা করার জন্য ৭ আগস্ট থেকে ফেনী মডেল থানায় তিন শিফটে পাহারা দিচ্ছি। ৯ আগস্ট থানার নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ এলে তাদের ঢুকতে দিচ্ছি না। তবে থানার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা উচিত। থানায় অনেকে জিডি ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ করতে এসেছিলেন। কিন্তু কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সেবা গ্রহীতারা চলে যাচ্ছেন।ফেনী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেনীর পরশুরাম মডেল থানা, ফুলগাজী, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী মডেল থানা চালু রয়েছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফেনী মডেল থানা ও ছাগলনাইয়া থানা কার্যক্রম চালু করার জন্য চেষ্টা করছি।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত