শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬

১৭ মাস কারাভোগের শিকার যুবদল নেতাও বিএনপির মামলার আসামি

আপডেট:

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর সারাদেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জেও বিভিন্ন থানায় একের পর এক আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলা করা হচ্ছে।এসব মামলার বাদী হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।এসব মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে করা হচ্ছে আসামি।কিশোরগঞ্জের এক মামলায় আসামির তালিকা থেকে বাদ যাননি যুবদলের নেতাও। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ ১৭ মাস কারাভোগ ও ১০ দিনের রিমাণ্ডে নিয়ে নির্যাতনের শিকার যুবদলের নেতা,সাবেক ছাত্রদল নেতা রুহুল আমিনকে ছাত্রলীগ কর্মী সাজিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।

আসামির তালিকায় নিজের নাম দেখে যুবদল নেতা রুহুল আমিন অবাক হয়েছেন।তিনি বিগত সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কিশোরগঞ্জে।এসব আন্দোলনের ছবি তার ফেসবুক আইডিতেও পোস্ট করা আছে।এছাড়া সরকার পতনের পর তার নিজ এলাকা উকিলপাড়ায় যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এবং চুরি ছিনতাইয়ের মত ঘটনা না ঘটে সেজন্য রাত জেগে পাহারাও দিয়েছেন রুহুল আমিন সহ এলাকার স্থানীয় যুবকরা।তবে এ মামলার ঘটনায় তিনি অভিযোগ করে বলেন,জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়ার তত্বাবধানে মামলাগুলো করা হচ্ছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তারা মামলা বাণিজ্য করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন যুবদল নেতা রুহুল আমিন।

অভিযোগটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য,গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় গত সোমবার কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন লতিফাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামের শিক্ষানবিশ আইনজীবী সুজন মিয়া। মামলায় ৯০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।এ মামলায় যুবদল নেতা রুহুল আমিন মামলার ৩৬ নম্বর আসামি।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল জানান, সুজন একটি মামলা করেছে এবং অনেক নিরীহ লোকদেরকেও আসামি করেছে শুনেছি। মামলার বিষয়গুলো সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং আইনি বিষয়টা সহ সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা হেন্ডেল করছেন বলে জানান তিনি।

জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বলেন, অহেতুক নিরপরাধ কাউকে যেন মামলায় জড়ানো না হয়, সে বিষয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। মামলার বিষয় দেখভাল এবং আসামি যাচাই বাছাই সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামই করছেন উল্লেখ করে নিজেদের অজান্তেই কিছু ভুলভ্রান্তি হয়ে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি। সিনিয়র কয়েকজন আইনজীবীর পরামর্শে তিনি নিজেই মামলার আইনি বিষয়গুলো দেখছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমি দেখে দেওয়ার পরও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে কাউকে আসামি করা হচ্ছে। বিষয়গুলো ওসি সাহেবকে বলেছি চার্জশিট থেকে যেন তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত