সিভিল সার্ভিসে শাসকের ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন ক্যাডার। এই ক্যাডার (প্রশাসন) সিভিল সার্ভিসের বাকি সব (২৫টি) ক্যাডারকে শাসন করছে, বঞ্চিত করছে। প্রশাসন ক্যাডারের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা আন্তক্যাডার বৈষম্যও বাড়িয়েছে।‘জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস বিনির্মাণে করণীয়: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতির অবসান দাবি করেছেন অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা।আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ। এতে বিভিন্ন ক্যাডারের আট হাজারের মতো কর্মকর্তা উপস্থিত হন। সভায় ১৫টির বেশি ক্যাডারের ১৯ জন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন।এই আলোচনা সভা থেকে মূলত যেসব দাবি উঠে এসেছে, সেগুলো হলো ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় তার হতে হবে, উপসচিব পদে কোটাপদ্ধতি বাতিল করতে হবে এবং সব ক্যাডারের সমতা নিশ্চিত করতে হবে।আলোচনা সভায় উপসচিব পদে কোটাপদ্ধতি বাতিল করে সব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি করা হয়েছে। আলোচনায় উঠে আসে, উপসচিব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি ক্যাডারের (প্রশাসন) জন্য ৫০ শতাংশ কোটা রাখা এবং বাকি ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ রাখার যে প্রস্তাব জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করতে যাচ্ছে, তা অগ্রহণযোগ্য। একইভাবে সিভিল সার্ভিস থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবটিও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সভায়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক কৃষিবিদ মো. আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকায় এই মুহূর্তে বৃহৎ কর্মসূচি থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন। তবে আগামী এক মাস ছাত্র-জনতার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন।জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশে ২৫ ক্যাডারের মতামতের প্রতিফলন দেখতে চান বলেও উল্লেখ করেন আরিফ হোসেন। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আরিফ হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বভার হাতে থাকায় সেটির অপব্যবহার করে সামান্য অপরাধে ঢালাওভাবে সাময়িক বরখাস্ত শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হবে। আর এ ধারা অব্যাহত থাকলে চাকরিবিধি অনুসরণ করে বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।

