গত দুই দিনের শৈত্যপ্রবাহে শুধু মানুষই নয়, পুরো প্রাণিকুলই কাবু হয়ে পড়েছে। মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রাণী শীতে এতটাই কাবু হয়ে গেছে যে, কোনোরকম হাটাচলা না করে মাথা গুঁজে বসে আছে। দশনার্থীরাও অনেক প্রাণী দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা গেছে, শীতের কারণে অনেক প্রাণী মারাও গেছে।শীতে বানর ও সাপ বেশি কাবু হয়ে যায়, বলছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তীব্র শীতে সাপ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া বানর তার স্বভাবজাত লাফালাফি বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকে। কথায় আছে, মাঘের শীতে বাঘও পালায়। কিন্তু এবার পৌষের শীতেই কাবু হয়ে পড়েছে বাঘ। খাঁচার কাছে গিয়ে দেখা যায়, একটা বাঘ মরা ঘাসের মধ্যে মাথা গুঁজে শুয়ে আছে। দর্শনার্থীদের আনাগোনাতেও কোনো সাড়া নেই।জলে থাকতে থাকতে যে প্রাণীটির নাম হয়ে গেছে জলহস্তি, সেই প্রাণীটিকেও দেখা গেছে, ডাঙ্গায় বসে আছে। যে সিংহ সারাক্ষণ তার কেশর ফুলিয়ে হুঙ্কার দিয়ে দর্শনার্থীদের মাতিয়ে রাখে, সেই সিংহও যেন কনকনে শীতে হুঙ্কার ভুলে গেছে। বসে আছে খাঁচার এককোণে চুপচাপ।চিড়িয়াখানার অধিকাংশ পাখি দেখা যায়, ওড়াওড়ি নয় বরং শরীরের লোম ফুলিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। তৃণভোজী প্রাণীগুলোর বেশিরভাগ ঠাণ্ডার কারণে ঠায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে রয়েছে।চিড়িয়াখানার কুমিরগুলোকেও পানিতে পাওয়া গেল না খুঁজে। পানির বদলে কুমিরগুলো ডাঙ্গায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। সাপগুলো কুণ্ডলি পাকিয়ে একে অপরের শরীরের সঙ্গে লেপ্টে রয়েছে। বানরগুলো যেনো খাঁচার কোণায় দলবদ্ধ হয়ে বসে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে।জাতীয় চিড়িয়াখানার বিষয়ে কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, শীতে কিছুটা হলেও সমস্যা হয়। বিশেষ করে বানর, সাপ, বাঘের মতো প্রাণীগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। শীতের তিন মাস সাপ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়। তারা এক কোণায় বসে থাকে। অনেক প্রাণী মারা যায়। এই শীত মৌসুমে এ পর্যন্ত কিছু পাখি মারা গেছে। আমরা প্রাণীগুলোকে সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট আছি।শীতের কারণে দর্শনার্থীও অনেক কমে গেছে। আলমগীর হোসেন নামে একজন তার দুই কন্যাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। বাঘের খাঁচার কাছেই তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, বাচ্চারা বানরের খেলা, লাফালাফি বেশি পছন্দ করে। আবার বাঘও দেখতে চায়। কিন্তু বাঘকে দেখলাম একেবারে মরার মতো শুয়ে আছে। আর বানর তো লাফালাফি করতেও ভুলে গেছে।তবে গতকাল শনিবার এর আগের দিনের তুলনায় শীতের তীব্রতা ছিল কম। দিনের কিছুটা সময় সূর্যের দেখাও মিলেছে।

