শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত ২০

আপডেট:

চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় গোলাম আকবর খোন্দকারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তরঘাট এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গোলাম আকবর খোন্দকারের ব্যক্তিগত সহকারী অর্জুন কুমার নাথ আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে গনমাধ্যকে বলেন, “আমার স্যারকে (গোলাম আকবর খোন্দকার) লক্ষ্য করেই গুলি করা হয়েছিল। তার গলার পাশ দিয়ে গুলি চলে গেছে, রক্তপাত হচ্ছে এখনো। তাকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। গলায় ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়েছে।”বিএনপি নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারের দাবি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষের লোকজনই তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদের কবর জিয়ারতে যাচ্ছিলেন। এসময় বিপরীত দিক থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা ৯ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি এবং গণসমাবেশ উপলক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে সত্তরঘাট এলাকায় পৌঁছায়। মুখোমুখি অবস্থান থেকে মুহূর্তেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়িবহরে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এসময় গোলাম আকবর খোন্দকার ছাড়াও তার সঙ্গে থাকা অনেক নেতা-কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।এদিকে ঘটনার পরপরই গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। বর্তমানে রাউজানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির তৎপরতা আছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে জানতে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
হামলার পর গোলাম আকবর খোন্দকার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আগেই সংবাদ পেয়েছিলাম তারা হামলা করবে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনি। পরে একটি নোট পেলাম, গিয়াস উদ্দিনের নির্দেশে আজকে সারাদিন সত্তরঘাট থেকে মুন্সিঘাটা পর্যন্ত মিছিল করা হবে। চিন্তা করলাম এটা একটা অশুভ পরিকল্পনা। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনিকে জানালাম, তারা আমাকে কনফার্ম করলো কোনো অসুবিধা নেই, আমরা আছি। তারপর আমরা আসছি। কিন্তু আমরা যখন সত্তরঘাট ব্রিজ ক্রস করলাম তখন ৫০-৬০ জন লোক ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করল। লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করল।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত