রোম: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে একজোট হয়েছে বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ইতালি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে ইরানকে সমুদ্রপথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করার জন্য কঠোর আহ্বান জানিয়েছে।যৌথ ঘোষণার মূল কি আছে, স্বাক্ষরকারী দেশগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতি রক্ষায় সমুদ্রপথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। চুক্তির প্রধান দিকগুলো। ইরানকে সতর্কবার্তা: আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করতে ইরানকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি মুখে : বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
মোরাটোরিয়াম দাবি: হামলা বন্ধে অবিলম্বে একটি বৈশ্বিক ‘মোরাটোরিয়াম’ বা সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু। এই চুক্তিতে মেলোনি সরকারের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতালির বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিরোধী দলের অভিযোগ করে বলে, বিশেষ করে বিরোধী দল এভিএস (AVS) এই পদক্ষেপকে ‘গোপন যুদ্ধের পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শুরু করা ‘অবৈধ’ যুদ্ধে এই চুক্তির মাধ্যমে ইতালি সরাসরি অংশীদার হতে যাচ্ছে।সরকারের আত্মপক্ষ সমর্থন: বিরোধীদের সমালোচনার মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রোসেত্তো স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জাতিসংঘের আইনি কাঠামো ছাড়া ইতালি সরাসরি কোনো সামরিক মিশনে অংশ নেবে না।অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজানি জানিয়েছেন, ইতালি সবসময় শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যদি জাতিসংঘের অধীনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে সেখানে ইতালি অত্যন্ত সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-পথে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা থাকলেও, ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি মেলোনি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফটো : হ্যালো ইতালি / ইতালি নিউজ

