পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, যারা স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল, তারা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের মতো বেয়াদবদের সৃষ্টি করেছে। কেউ যদি বলে বাংলাদেশে বিরোধী দলে একটি-দুইটি-চারটি দল, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। বিরোধী দল একটি, সেটি হলো জামায়াত-শিবির। নতুন যে ছাত্র সংগঠন করে জাতীয় রাজনীতিতে এনসিপি নামক দল তারা সৃষ্টি করেছে। এরা একে-একাকার হয়ে গেছে ওই জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে।মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরে জুলাই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির ব্যানারে শহরের এন আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এর আয়োজন করা হয়। পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টের বাইরে পক্ষ হলো দুইটি। একটি জামায়াত-শিবির পক্ষ এবং আরেকটি হলো জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী পক্ষ।এরা কী ভাষায় কথা বলছে… প্রতিদিন তারা গায়ে পড়ে ঝগড়া-ঝাঁটি করে। প্রতিনিয়ত তারেক রহমানকে নিয়ে গায়ে পড়ে উচ্চবাচ্য, অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে। এখনো দেশের মানুষ ধৈর্য ধরছে। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ এখনো ভেঙে যায়নি।কারণ আমরা রাজনীতি করতে করতে এখানে এসেছি। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার নেতৃত্বে। একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল, এর একটি গঠনতন্ত্র আছে, নিয়ম আছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো কেউ যদি অশালীন ভাষায়, রুচিহীন… যেটা রাজনীতিতে যায় না- এ ধরনের কথা আমাদের পার্টিতে বলতে চায়, ওই সুযোগ বিএনপিতে নেই। তারেক রহমান এ ব্যাপারে খুব সজাগ এবং সতর্ক।এ পর্যন্ত কতজনকে বহিষ্কান ও বাদ দিয়েছেন, এই হিসাব দেখলে বোঝা যায়, কোনো বেয়াদবের প্রশ্রয় এ পার্টিতে নেই। শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ৫ তারিখের পর এরা শুধু জুলাইকে বিভক্তি করেনি, বাংলাদেশকে বিভক্তি করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিভক্তি করেছে। এরা বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরিয়েছে। ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই লক্ষ্মীপুরে আমাদের সামনে থেকে কৃষকদল নেতা সজীবকে হত্যা করেছে। আপনারা তখন কোথায় ছিলেন? এটা শুধু লক্ষ্মীপুরের চিত্র নয়, সারা বাংলাদেশের চিত্র।জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, হারুনুর রশিদ বেপারী ও লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন।

