মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬

রাতারাতি কোটিপতি

আপডেট:

 

লেখক ঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তাং ঃ ১১.০২.২০২৪

 

বিজ্ঞাপন

আপনি জানেন কি বিশ্বে রাতারাতি কোন দেশে কোটিপতি হওয়া যায়? কোন দেশে চোর পালালে প্রশাসন সজাগ হয়? কোন দেশে টাকা পাচারের পর প্রশাসন জানতে পারে? কোন দেশে জাতিরজনক হত্যার জন্য গোয়েন্দাদের বিচারের আওতায় আনা হয় না? কোন দেশে ইসলামের নামে ব্যবসা দারুন জমে, ইসলামি ব্যঙ্ক বীমা রাজনৈতিক দল তাই দারুন সফল?

কোন দেশে শুধু সনদ বেচতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলে? কোন দেশে ৫ বছর বসে শত সীল ছাপ্পর তৈরি করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার মাস্টার্স সনদ বিক্রি অফিস খুলে ব্যবসা করা যায় এবং ৫ বছরে ৬ হাজার শুধু ডাক্তারী সনদ বিক্রি করেছে! কোন দেশে বিসিএস পাশ করা U N O ভীম ঢালাইতে রডের বদল বাশ ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়? কোন দেশের স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর?

 

উত্তর খুব সহজ, এই দেশের নাম বা ং লা দে শ!

পিরোজপুরের সড়ক বিভাগের হিসাব রক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির একটা চাকুরী তে থেকে এত সম্পদ জমিয়েছেন যে তিনি হেলিকপ্টার কিনে ফেলেছেন! দুদক এখন তার পিছু নিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর সাংবাদিক কথোপকথনে মনে হলো তিনি ইনোসেন্ট কেবল ঘুম থেকে উঠলেন!

মনে পড়ে সেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ড্রাইভার নূরানী চেহারার দাড়ি-টুপি সুন্নতি আব্দুল মান্নানের কথা যিনি রিকসায় বিবিকে তুললে সামনে চাদরে ঘিরে দেন তিনি ড্রাইভার হয়ে ও মাত্র ২০০ কোটি টাকা চুরি করেছেন, ক্যাশ বললাম, স্হাবর অস্হাবর সম্পদের হিসাব লেখাজোঁকা নাই! তার মহাপরিচালক ও তেমন কিছু জানতেন না, মান্নান কোথায় টাকা পেলো কিভাবে কামালো?

 

এইসব সাগর চুরি ঠেকাতে প্রশাসন দুদক ও গোয়েন্দা শক্ত হলে আরো ৫ টা পদ্মা সেতু, ৫ টা কর্ণফুলী টানেল, ৫ টা সিঙ্গাপুর দঃ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এয়ারপোর্ট চাঙ্গির আদলে যে তৃতীয় বিমান বন্দর বাংলাদেশে হয়েছে তৎসম আরো ৫ টা হতে পারতো, কিনতে পারতো ড্রোন, S – 400 তুরস্ক ভারতের মত, কিনতে পারতো যুদ্ধ বিমান ফ্রান্সের রাফালে, আমেরিকার ম্যাকডোনেল, রাশিয়ার সুখোই সু – ৩৫ !

 

আমার একজন কলকাতার কবিকে বাংলাদেশের কোন কবি গালমন্দ করেছে, “তোরা ভারতীয় রা কৃপন, মিষ্টি কিনিস গুনে, আতিথেয়তা নাই বললে চলে ইত্যাদি!

আমি শুনে খুব মর্মাহত। মেয়েটাকে আমি দারুন ভালোবাসি। সে প্রায় ২৫/৩০ ডেল অবিরাম শারিরীক ব্যথা নিয়ে বেচে আছে, আর্থিক অসচ্ছলতা আছে। একটা ইনজেকশন ৫ হাজার মূল্য। তবুও সে লেখে।

 

প্রিয় পাঠক, কলকাতা ভারতের লোক কৃপন না, হিসাবি, মিতব্যয়ী। বাংলাদেশের মত চুরি নাই, ৩০ টাকা করে আমড়া কাওরান বাজার থেকে কিনে মালীবাগ বাসাবো খিলগাও বাজারে এনেই সিন্ডিকেট ৬০ টাকা কেজি। ও দেশের লোক দেশ প্রেমিক। অবৈধ আয় ধরা পড়ে হেলিকপ্টার কেনার আগে।

কলকাতা এসি মার্কেটে আমার সহধর্মিণী স্বর্ন কিনলেন, পরিমান একটু বেশী। দোকান মালিক পুলিশ কে information দিয়ে দিছেন আমাদের কেনাকাটা দেখে, পুলিশ হাজির। আমাদের জেরা শুরু, যখন ই শুনলো বাংলাদেশ থেকে আগত, ছালাম কালাম নমস্কার দিয়ে ক্ষমা চেয়ে চলে গেলেন। হয়তো ভাবলেন পাশে বাংলাদেশ আছে বলেই আমরা ভালো আছি!

 

আপনার দেশ কি এমন? আপনার মানসিকতা কি এমন? আপনি কি দেশ প্রেমিক। যারা দেশের শাসক বিভিন্ন সময় তারাই তো কানাডার বেগম পাড়া বানিয়েছেন! এসব থামাতে RAB এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আর-একবার। জেলায় জেলায় ” দ্রুত বিচারকি” আদালত করা হউক। এমন অধীনস্থের সম্পদের সাথে উপরের বসের খোঁজ করা উচিৎ তিনি কত বিলিয়ন পাচার করেছেন? কম পক্ষে অধীনস্থের চুরি তিনি কেন জানেন না তা কৈফিয়ত নেয়া হোক! প্রশাসন কে আরো শক্ত করা হোক। ক্রস ফায়ার চালু করা হউক। মার্কিন মানবতা গনতন্ত্র আমাদের হবে না মুল মন্ত্র! তবে রাজনৈতিক হাতিয়ার না হোক।

 

ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।

 

পিরোজপুর সড়ক বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীর হেলিকপ্টার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত