বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

১২০টি প্রতিষ্ঠানের পন্য রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার শীর্ষে ক্রিসেন্ট লেদার

আপডেট:

দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত ১২০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে ১১২ কোটি ১০ লাখ ডলার পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি অর্থে যা ১৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকারও বেশি। পাচারকারী অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পণ্য তৈরি করেছিল। সেই ঋণের টাকায় দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির পর মূল্যের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আর ফেরত আনেনি। বরং দেশের অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে মজুদ ও ব্যয় করেছে। অন্যদিকে দেশে হয়েছে ঋণ খেলাপি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদন থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।সিআইডি সূত্র বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পণ্য তৈরি করেছিল। সেই পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। পণ্য বিক্রির এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা আর দেশে ফেরত আনেনি। বরং বিদেশে অবৈধভাবে সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং বিলাসবহুল বাড়িসহ আনন্দ-বিনোদনে ব্যয় করেছে। এদিকে ব্যাংক ঋণও পরিশোধ করেনি; কৌশলে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ ছাড়াও শুধু বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে পণ্য রপ্তানি করেছে। রপ্তানির আড়ালে ১৩.৫ কোটি ডলার (প্রায় ১৬৪৫ কোটি টাকা) পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মানিলন্ডারিং মামলা করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটির বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।সিআইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য রপ্তানির আড়ালে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করেছে ক্রিসেন্ট লেদার। প্রতিষ্ঠানটির পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ১৭.২৬ কোটি ডলার (২০৯৫ কোটি টাকা)। বিসমিল্লাহ গ্রুপ পাচার করেছে ১২.৩ কোটি ডলার (১৪৯৮ কোটি টাকা), রিমেক্স ফুটওয়্যার ৬.৪ কোটি ডলার (৭৮০ কোটি টাকা), মাস্ট কর্পোরেশন ৫.৩ কোটি ডলার (৬৪৬ কোটি টাকা), আকিজ গ্রুপ ২.১ কোটি ডলার (২৫৬ কোটি টাকা), অ্যাপোলো অ্যাপারেল্স ২.৩ কোটি ডলার (২৮০ কোটি টাকা), আলফা কম্পোজিট ৫.৮ কোটি ডলার (৭০৭ কোটি টাকা), রূপালী কম্পোজিট ৫.১ কোটি ডলার (৬২১ কোটি টাকা), এসেস ফ্যাশন ২.৪ কোটি ডলার (২৯২ কোটি টাকা), ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার ও অ্যাপরেলস (ইউনিট-২) ২.৫ কোটি ডলার (৩০৫ কোটি টাকা), কন টং অ্যাপারেলস ১.৫ কোটি ডলার (১৮৩ কোটি টাকা), কাদেনা স্পোর্টসওয়্যার ১.২ কোটি ডলার (১৪৬ কোটি টাকা), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ২.৩ কোটি ডলার (২৮০ কোটি টাকা), এসবি এক্সিম বাংলাদেশ ৩.১ কোটি ডলার (৩৭৮ কোটি টাকা), এসকিউ গ্রুপ ২.৫ কোটি ডলার (৩০৫ কোটি টাকা), বেক্সটেক্স গার্মেন্ট ২.৪ কোটি ডলার (২৯২ কোটি টাকা), হিন্দোলওয়ালী টেক্সটাইল ১.৪ কোটি ডলার (১৭১ কোটি টাকা) এবং লিনি ফ্যাশন ৩.২ কোটি ডলারের (৬২১ কোটি টাকা) পণ্য রপ্তানির পর এসব অর্থ দেশে ফেরত আসেনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত