গেল বছর অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে প্রবাসী আয়। আলোচ্য বছরে পৌনে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা এক বছরের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে, যা এক মাসের হিসাবে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। সরকারের নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকা, ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো টাকার বিপরীতে তুলনামূলক ভালো বিনিময় হার পাওয়া এবং হুন্ডি কার্যক্রম দমনে নজরদারি জোরদার হওয়ায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি বছরের শেষ দিকে পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতাও রেমিট্যান্স বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এটি একক মাস হিসেবে এ যাবতকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আগের মাস নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসেছিল ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। এর আগে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ঈদের মাস গত মার্চে। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলাল। সব মিলিয়ে গত বছরের পুরো সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩ হাজার ২৮১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার (৩২.৮১ বিলিয়ন)। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৫৯২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বা ২২.০৪ শতাংশ বেশি। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাবে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১৮.১০ শতাংশ বেশি।

