শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে ভারতের নীতি বদলায়নি

আপডেট:

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৪ সালে ভারতের বেশির ভাগ প্রতিবেশী দেশেই রাজনৈতিক উথাল-পাথাল ঘটেছে। এমন কিছু ঘটনাও হয়েছে কয়েকটি দেশে, যার ফলে ভারতের সঙ্গে সেই দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এসেছে টানাপড়েন। ভারতকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায়। অবশ্য এ সময়ে চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ নিয়ে অগ্রগতিও দেখা গেছে। নরেন্দ্র মোদি যখন ২০১৪ সালে প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেন, তখন প্রায় সব প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানরাই ভারতে এসেছিলেন। শপথ গ্রহণের পর থেকে গোড়ার দিকে কয়েক বছর মোদি শুধুই প্রতিবেশী দেশগুলোতেই সফর করেছিলেন। তা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ভারতের বিদেশনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নীতিকে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নাম দেওয়া হয়। তবে এই নীতির প্রথম ধারণাটা এসেছিল ২০০৮ সালে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য এই নীতি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এক দশক পরে এসে সে পরিস্থিতি পুরো উল্টে গেছে। বিবিসির দিল্লি প্রতিনিধি অভিনব গোয়েলের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের বর্তমান সম্পর্কের চিত্র।প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি দুবার বাংলাদেশ সফরে গেছেন। একবার ২০১৫ সালের ৬ জুলাই, দ্বিতীয় বার ২০২১ সালের ২৬। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আমূল বদলে গেছে। শেখ হাসিনা পাঁচ আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। তখন থেকেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ভারত লাগাতার অভিযোগ করে আসছে যে তারা সে দেশে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক উথাল-পাথাল সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় তবে সে কারণে ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে কোনো বদল ঘটেনি। তার কথায়, সব সময়েই ভারতের নীতি এটাই থেকেছে যে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবেশী দেশগুলোও যাতে অর্থনৈতিকভাবে মজবুত হয় আর সেখানে রাজনৈতিক সুস্থিরতা বজায় থাকে।তিনি মনে করেন যে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সেখানে জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ-বিরোধী শক্তিগুলো মজবুত হয়েছে, যার ফলে তারা পাকিস্তানের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত