বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন ও ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে গতকাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের সময় পুলিশ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সাগরিকা ঘোষসহ অন্তত ২০০ সংসদ সদস্যকে আটক করে। তবে দুই ঘণ্টা পর প্রায় সবাইকেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অফিসের দিকে রওনা হয়েছিলেন। সূত্র : পিটিআই, দ্য হিন্দু।খবরে বলা হয়, থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ভারতীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে যোগ দেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। এদিন বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) দপ্তরের দিকে পদযাত্রা করছিলেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদের ‘মকর দ্বার’ থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত এ পদযাত্রা শুরু হয়। এর আগে আমাদের দিল্লি ও কলকাতা প্রতিনিধি জানান, ভারতের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদ করতে গিয়ে গতকাল রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের ২০০-এর বেশি সংসদ সদস্যকে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করে।তারা পার্লামেন্টে থেকে এক কিলোমিটার দূরে নির্বাচন কমিশন দপ্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, সুস্মিতা দেব, ডেরেক ও’ব্রায়ান, এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, ডিএমকে সংসদ সদস্য টি আর বালু, শিবসেনা (ইউবিটি গোষ্ঠী) সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউতসহ ৩ শতাধিক সংসদ সদস্য। এক পর্যায়ে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। এরপর পুলিশের বাধা টপকে সেই ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন অখিলেশ, মহুয়া, সাগরিকারা।বাকিদের অনেকেই সেখানে বসে পড়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কার্যত হুলুস্থুল কাণ্ড বেঁধে যায়। এ অবস্থায় মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, মিতালী বাগসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য অচেতন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মিতালী বাগকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
এ উত্তেজনার মধ্যেই এক এক করে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, জয়রাম রমেশ, সাগরিকা ঘোষ, এনসিপি সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদবসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে বিরোধী সংসদ সদস্য আটক করে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ থানায়। যদিও পরবর্তীতে আটক সংসদ সদস্যদের প্রত্যেককেই মুক্তি দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় রাহুল বলেন, ‘এটা রাজনীতির লড়াই নয়। এটা ভারতের সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। ’ মিছিলের আগে বিক্ষোভের কারণে পার্লামেন্টের দুই কক্ষ রাজ্য সভা ও লোকসভা অচল হয়ে যায়। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোটের তালিকা সংশোধন করছে এবং এভাবে ভোট চুরি করে হরিয়ানা মহারাষ্ট্রে জিতেছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, ‘আমরা ৩০ জন সংসদ সদস্যকে ভিতরে আসার অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ২০০ জন আসতে চাইছিল। ’ জানা গেছে, প্রতিবাদের কারণ নির্বাচন কমিশন যেসব রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন রয়েছে তার তালিকা সংশোধন করছে। বিহারে ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের। পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছরের ভোট। তার আগে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। অবশ্য বিজেপির মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, ‘এটা রুটিন বিষয়। কেন প্রতিবাদ করছেন বোধগম্য নয়।
সূত্র : পিটিআই, দ্য হিন্দু।
দিল্লিতে রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার ২ ঘন্টা পর মক্তি তোলপাড় ভারত জুড়ে
আপডেট:

