ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবসহ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোর। ভারী বর্ষণের পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে দুটি বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার অভিযোগ করেছে দেশটি।পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার মালিক বলেছেন, বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।গণমাধ্যমকে জেনারেল মালিক বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী, রেঞ্জার্স, রেসকিউ ১১২২, প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) এবং অন্যান্য সংস্থার ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ চলছে। বাসিন্দাদের ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে তারা চিকিৎসা, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন।ভারত ও পাকিস্তান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতের বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার কারণে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে বন্যা আরও তীব্র হতে পারে। এ প্রদেশকে পাকিস্তানের খাদ্যভাণ্ডার বলা হয় এবং এখানে দেশটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা বাস করে।পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ মে মাসে কয়েক দিনের সংঘাতে জড়ায়, যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই। বন্যার জন্য ভারতকে দোষারোপ করলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে।পাকিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, ভারত রাভি নদীর থেইন বাঁধের সব গেট খুলে দিয়েছে। ভারতের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বার সতর্ক করার পরদিনই এই ঘোষণা আসে। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল, দ্রুত পানি বাড়তে থাকা মাধোপুর বাঁধ থেকেও পানি ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি বাঁধই রাভি নদীতে অবস্থিত, যা ভারতের পাঞ্জাব থেকে পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়েছে।পাঞ্জাব প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ইরফান আলী কাঠিয়া বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতি গুরুতর। আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এর আগে পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, তাদের স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, থেইন বাঁধ ৯৭ শতাংশ ভরে গেছে এবং যে কোনো সময় পানি ছাড়তে পারে।

