বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

ট্রাম্পের নৌ বন্দর অবরোধ ইরানের পাল্টা হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ডুবিয়ে দেওয়া হবে

আপডেট:

ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের চেষ্টা করা হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা এই কড়া বার্তা প্রদান করেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বন্দর অবরোধের হুমকিকে ভিত্তিহীন এবং সামরিক প্রচারণামূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ট্রাম্পের এই হুমকির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এটি কেবল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।বোরুজেরদি আরও বলেন, এ ধরনের হুমকি কার্যকর করার মতো কোনো প্রকৃত সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। এ ছাড়া ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হরমুজ প্রণালি ও ইরানের জলসীমাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হলো।এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ধারেকাছে কোনো ইরানি জাহাজ দেখা গেলে তা সরাসরি ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সোমবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তাদের ছোট আকারের ‘ফাস্ট অ্যাটাক’ বা দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই জাহাজগুলো যদি মার্কিন অবরোধের সীমানায় প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন নৌবাহিনী মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অত্যন্ত কঠোর ও প্রাণঘাতী কৌশল প্রয়োগ করবে।নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের ব্লকেড বা অবরোধের কাছাকাছি আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সমুদ্রে মাদক ব্যবসায়ীদের বোট ধ্বংস করতে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, এখানেও ঠিক তাই করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি হবে অত্যন্ত দ্রুত এবং নৃশংস।সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর মাঝেই ট্রাম্পের এমন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত