কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অতঃপর পলায়ন।
বিশেষ প্রতিনিধি ;**——————————————
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২র ভাষা আন্দোলন।৬২র শিক্ষা আন্দোলন ৬৬র ছয় দফা।৬৯এর গণ অভ্যূত্থান। ৭০এর যুক্ত ফ্রন্ট এর নির্বাচন। ৭১এর স্বাধীনতা যুদ্ব এত সব কিছুর সূতিকাগার হচ্ছে এই দ্বিতীয় সংসদ তথা (ঢাঃবি) এর ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।আর দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামীলীগ টানা ক্ষমতার মসনদে থাকা কালীন ২০১৮ সালের শেষের দিকে সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীরা প্রথম কোটা সংস্কার আন্দোলন এর সূচনা করেন।নেতৃত্বের অগ্রভাগে থাকা নুরুল হক নুরু সহ সমন্বয়ক যারা ছিলেন তৎপরবর্তী ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অকুন্ঠ সমর্থন এ ভি,পি নির্বাচিত হন নুরুল হক (ভি,পি,)নুর। এরপর পরই চাটুকার,দালাল,মিডিয়া কর্মীরা যাদের ইংগিতেই হোক শুরু করলো ভি,পি নুর কে নিয়ে নোংরা খেলা।আর ভি,পি নুর গণ অধিকার পরিষদ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিলেন।এরপরই বেড়ে গেলো বৈষম্য বাদীদের নোংরামীর মাত্রা।
এখন আসা যাক বৈষম্য বিরোধী এই শব্দটীর যথার্থ এবং মর্মার্থ নিয়ে আমার জন্মস্থান ফেনী জেলায় আর বাংলাদেশের সংসদীয় ৩০০ আসনের মধ্যে দুইটি ভি,ভি,আই,পি আসন হল গোপালগন্জ।আর একটা ফেনী ০১ আসন। যাহা ফুলগাজী পশুরাম, ছাগলনাইয়া এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ার পার্সন সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আসন। সবচেয়ে ভি,ভি,আই,পি আসন হিসেবেও আলোচিত।চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে নির্বাচিত হওয়ার পরেও চারটি আসন অন্যদেরকে ছেড়ে দিয়ে আমাদের এই আসনটি উনি সংসদীয় আসন হিসেবে রাখতেন এবং প্রধানমন্ত্রী হতেন।বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার আসন হওয়ায় ফেনী ০১ আসনের প্রতি যেই বৈষম্য গত সরকার দেখিয়ে গিয়েছেন তার একটি বাস্তব উদাহরণ দিতেই আমার এই লেখা।যারা এই বৈষম্য গুলো সৃষ্টি করেছিলেন তাঁদের বলতে চাচ্ছি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত আস্থাভাজন একজন সচিব কিছুদিন আগে প্রয়াত আমাদের ফুলগাজী উপজেলার জি এম হাটি ইউনিয়নের সন্তান মহিউদ্দিন আহমেদ। এরপর থেকে যে বৈষম্যগুলা আমি আমার ফেনী এক আসনে দেখেছি তা আমার ফুলগাজী উপজেলা দিয়েই প্রমাণ দেই ০৬ জন যুগ্ম সচিব এবং ০৬ জন এস,পি এবং অসংখ্য সরকারি চাকুরীজীবীদের যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও তাদের প্রমোশন বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
তার একটি মাত্র কারণ এটা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আসনের।এখন আমার প্রশ্ন হল খালেদা জিয়ার আসনে সবাই বিএনপি, করে আর কেউ আওয়ামী লীগ, জামাত, জাসদ, এর রাজনীতি করেনা?নাকি?আর এসব কিছু যখন নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করলাম নিজে খুব কষ্ট অনুভব করলাম।আর তখন থেকে বৈষম্য বাদী আর সাম্রাজ্যবাদী দের বিরুদ্বে আমার কলম তুলতে বাধ্য হলাম এবং তাঁদের প্রতি আমার প্রচন্ড রকম ঘৃনা জন্মেছে।এবার যখন আবারো কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলো তখন আমি আমার facebook ভেরিফাইড আইডি থেকে একটি পোস্ট করেছিলাম। আর তা হল স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ৫০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বয়সও ৫০ বছর।
তাহলে ওদের নাতি পুতিরাও কি এই কৌটার আওতায় আসবে?যারা বৈষম্য শব্দের যথার্থ না বুঝে আমাকে আমার পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে যেসকল দলকানা সমর্থক ফেসবুকে আমার পোস্ট এ অযাচিত প্রশ্ন করে কমেন্ট লিখেন তাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করতে চাই।এবার যখন কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের অহিংস আন্দোলন শুরু হলো তখনো অতটা উত্তাল হয়নি আর যখনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাল বাঁকা করে বলে ফেললেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছাত্র/ছাত্রী আন্দোলন কারীদের দমাতে আমার ছাত্রলীগই যথেষ্ট। তার কিছুক্ষণ পরেই ছয়টি লাশ পড়লো বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ ভবনে। তখন আমি আমার দলীয় লোকজনকে বললাম এবার ছাত্রদের উপর যেহেতু গুলি চালানো হয়েছে সেহেতু ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।উনারা ৯৩% মেধার ভিত্তিতে যখন রায় ঘোষণা করলেন। তখনই ছাত্ররা তাদের স্লোগান পাল্টিয়ে ৯ দফা থেকে এক দফায় রূপ দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নাম দিলেন এবার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।এটা দেওয়ার পরই তারা এক দফা দাবি দিয়ে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে শুরু করলেন। এবং এই তাঁদের এক দফার দাবিতে শেষ পর্যন্ত নব্য স্বৈরাচারী প্রধান মন্ত্রী উপাধি নিয়ে, সেনাপ্রধানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে গেলেন। আর বৈষম্য বাদী,সুবিধা বাদী মন্ত্রী, সাংসদ,ইউনিয়ন এর ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র,কমিশনার,উপজেলা চেয়ারম্যান গণও গা ঢাকা দিতে শুরু করলেন।আশা করি ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসতেছেন বা আসবেন ভাবছেন। আপনাদেরও বলছি আপনাদের কর্মকান্ডই আপনাদের আগামী নির্ধারণ করবে।
অতএব এখন থেকে সাবধানে পথ চলতে হবে।কোন ধরনের বৈষম্য মূলক আচরণ কারো সাথে না দেখিয়ে সাম্য আর সম্প্রিতির ভিত্তি মজবুত করে নিন।গত পরশু দিন ফুলগাজী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এর আয়োজনে একটি আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামী ফুলগাজী উপজেলা আমির জামাল উদ্দিন চৌধুরীর একটি বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরতে হলো তা ছিলো সনাতন হিন্দু ধর্মের লোকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন আমাদর দেশে আর কখনো আমরা কেউ আপনাদের কে সংখ্যা লগু বলে আখ্যায়িত না করে সৌহার্দপূর্ণ আচরন করে চলবো আগামী দিন গুলো।১৯৯০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ফুলগাজী থানা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। সে হিসেবে আমার ফেসবুক প্রোফাইলে ওটা উল্লেখ করা আছে।২০১০ সালে ঢাকা থেকে ফিরে এসে পাক্ষিক অনির্বাণ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা করি। সে হিসেবে আমি নিজেকে স্ব্ছ এবং নিরপেক্ষ বলে গর্বিত মনে করি। কারন একমাত্র আমিই সত্যের পক্ষে প্রথম ফুলগাজী থেকে একটি পত্রিকা বের করতে পেরেছিলাম।আর তা উম্মোচন করেছিলেন তৎকালীন ফুকগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম।
পত্রিকার দ্বিতীয় পৃষ্ঠার সম্পাদকীয় কলামের নীচেই “হ্যলো চেয়ারম্যান সাব” কলামে একরাম চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধেই আমার লিখা ছিলো।এখনকার কোন নেতা কার বাড়িতে বসে দাওয়াত খেয়ে লেঁয়াজো করে বৈষম্য বিরোধী দের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ফিরিস্তি ও অজানা নয়।
সম্পাদকঃ অনির্বাণ
১৫/০৮/২০২৪ ইংরেজি।

