বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২৬

আইএমএফের ঋণ অন্তহীন ঋণের দুষ্টচক্র তৈরি করে

আপডেট:

মুহম্মদ আল মুখতাফি: লেখক ও সাংবাদিক

পৃথিবীকে সবার জন্য কার্যকর রাখার কাজটা শুরু হতে হয় অর্থনৈতিক ক্ষত নিরাময় দিয়ে। বিশেষ করে সে ক্ষত, যা মুক্তবাজার অর্থনৈতিক নীতির কারণে সৃষ্ট। নীতিগুলোর প্রভাব সম্ভবত বেশি প্রতিফলিত হয় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তথা আইএমএফের চাপিয়ে দেয়া কাঠামোগত সমন্বয় প্রোগ্রামে। প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও খাদ্যশস্য ও রান্নার তেলের মতো প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে ভর্তুকি কমাতে হয়। কমে যায় জাতীয় মুদ্রার মান ও প্রকৃত মজুরি। আমদানি নিয়ন্ত্রণের সব শুল্ক বাতিল করা হয়, ফলে বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রয় বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় শিল্প ও কৃষকদের জন্য বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে যায়। চাপের মধ্যে পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য। এভাবে আইএমএফের ঋণ প্রায়ই তৃতীয় বিশ্বের জন্য একটা অন্তহীন ঋণের দুষ্টচক্র তৈরি করে। দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো সে দাবিকেই প্রমাণ করে।পাকিস্তান উন্নয়নশীল দেশ। আইএমএফের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ২০১৩ সালে পাকিস্তান ৪৩৯ কোটি এসডিআর এবং ২০১৯ সালে ৪২৬ কোটি এসডিআর ঋণ নিয়েছিল। এসডিআর বা স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস হলো আইএমএফের নিজস্ব অর্থ ব্যবস্থা। সংস্থাটির সম্পদ ও ঋণকে এসডিআর এককে গণনা করা হয়। অবশ্য এসডিআর কোনো মুদ্রা নয়, একটি ধারণা। এর মান ধরা হয় মার্কিন ডলার, ইউরো, চীনা রেনমিনবি, জাপানি ইয়েন ও পাউন্ড এ পাঁচটি মুদ্রার আনুপাতিক গড় হিসাব করে। যা-ই হোক, পাকিস্তানি সরকার ঋণ নিয়েছিল বাজেটের ভারসাম্যহীনতা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু তা আরো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ২০২২ সালে পাকিস্তান আইএমএফের জুড়ে দেয়া ২৮টি শর্তের মধ্যে ১৬টি শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ১১০ কোটি ডলারের তহবিল আটকে দেয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমায় যুক্ত করে আরো আটটি কঠোর শর্ত। ফলে সরকার কৃষি খাত ও মূল্য সংযোজন কর থেকে অব্যাহতি পাওয়া বিভিন্ন খাত থেকে ভর্তুকি সরিয়ে নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যার মিশ্রণ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশীয় বন্যা ও ইউক্রেন যুদ্ধে প্রভাবিত হয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। ক্রমে ঘনীভূত হয়েছে বৈদেশিক রিজার্ভের পতন, ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন, জিডিপি বৃদ্ধিতে মন্থরতা ও বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা।

বিজ্ঞাপন

home
EN

৮০ বছরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ
তৃতীয় বিশ্ব ও আইএমএফ
মুহম্মদ আল মুখতাফি
প্রকাশ: মঙ্গলবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:০০

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার বৈঠক ছবি: আল জাজিরা
পৃথিবীকে সবার জন্য কার্যকর রাখার কাজটা শুরু হতে হয় অর্থনৈতিক ক্ষত নিরাময় দিয়ে। বিশেষ করে সে ক্ষত, যা মুক্তবাজার অর্থনৈতিক নীতির কারণে সৃষ্ট।

পৃথিবীকে সবার জন্য কার্যকর রাখার কাজটা শুরু হতে হয় অর্থনৈতিক ক্ষত নিরাময় দিয়ে। বিশেষ করে সে ক্ষত, যা মুক্তবাজার অর্থনৈতিক নীতির কারণে সৃষ্ট। নীতিগুলোর প্রভাব সম্ভবত বেশি প্রতিফলিত হয় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তথা আইএমএফের চাপিয়ে দেয়া কাঠামোগত সমন্বয় প্রোগ্রামে। প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও খাদ্যশস্য ও রান্নার তেলের মতো প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে ভর্তুকি কমাতে হয়। কমে যায় জাতীয় মুদ্রার মান ও প্রকৃত মজুরি। আমদানি নিয়ন্ত্রণের সব শুল্ক বাতিল করা হয়, ফলে বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রয় বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় শিল্প ও কৃষকদের জন্য বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে যায়। চাপের মধ্যে পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য। এভাবে আইএমএফের ঋণ প্রায়ই তৃতীয় বিশ্বের জন্য একটা অন্তহীন ঋণের দুষ্টচক্র তৈরি করে। দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো সে দাবিকেই প্রমাণ করে।

পাকিস্তান উন্নয়নশীল দেশ। আইএমএফের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ২০১৩ সালে পাকিস্তান ৪৩৯ কোটি এসডিআর এবং ২০১৯ সালে ৪২৬ কোটি এসডিআর ঋণ নিয়েছিল। এসডিআর বা স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস হলো আইএমএফের নিজস্ব অর্থ ব্যবস্থা। সংস্থাটির সম্পদ ও ঋণকে এসডিআর এককে গণনা করা হয়। অবশ্য এসডিআর কোনো মুদ্রা নয়, একটি ধারণা। এর মান ধরা হয় মার্কিন ডলার, ইউরো, চীনা রেনমিনবি, জাপানি ইয়েন ও পাউন্ড এ পাঁচটি মুদ্রার আনুপাতিক গড় হিসাব করে। যা-ই হোক, পাকিস্তানি সরকার ঋণ নিয়েছিল বাজেটের ভারসাম্যহীনতা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু তা আরো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ২০২২ সালে পাকিস্তান আইএমএফের জুড়ে দেয়া ২৮টি শর্তের মধ্যে ১৬টি শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ১১০ কোটি ডলারের তহবিল আটকে দেয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমায় যুক্ত করে আরো আটটি কঠোর শর্ত। ফলে সরকার কৃষি খাত ও মূল্য সংযোজন কর থেকে অব্যাহতি পাওয়া বিভিন্ন খাত থেকে ভর্তুকি সরিয়ে নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যার মিশ্রণ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশীয় বন্যা ও ইউক্রেন যুদ্ধে প্রভাবিত হয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। ক্রমে ঘনীভূত হয়েছে বৈদেশিক রিজার্ভের পতন, ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন, জিডিপি বৃদ্ধিতে মন্থরতা ও বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা।

আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো অন্যান্য বহুপক্ষীয় দাতাদের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় সম্পর্ক সাত দশকেরও বেশি। আশির দশক থেকে কাঠামোগত সমন্বয়ের ছদ্মবেশে ব্যবহৃত আর্থিক এবং নীতিগত উপকরণগুলো এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাঠামোগত সমন্বয় ঋণ পেয়েছে আইএমএফের কাছ থেকে। ১৯৮২ সালে জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর থেকে আইএমএফের সঙ্গে বিশের অধিক কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। ১৯৮১-২০০১ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নে দেখা গেছে, নীতিগুলো ম্যাক্রোইকোনমিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বেকারত্ব। মূলত বাজেটের ঘাটতি কমানো, পরোক্ষ কর, বিনিময় হার সমন্বয়, ভর্তুকি কমানো ও বেসরকারীকরণের মাধ্যমে শক্তি খরচ বৃদ্ধির নীতির কারণে যা হয়েছে, তারই পরিণতি বেকারত্ব। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছিলেন, আইএমএফের বাজেট সম্পর্কিত পরামর্শ গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু দ্রুত তার মন্তব্য ফিরিয়ে নিতে হয়। সরকার আইএমএফের সুপারিশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে বাজেট সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তানকে এখন আমদানি নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করতে হবে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ পুনরুদ্ধার করা যায়। ট্যাক্স ছাড় বাতিল করতে হবে, যাতে সরকার আয় সৃষ্টি করতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে হবে, ব্যাংকগুলোর দ্বারা করা অনুপযুক্ত ঋণ বাতিল করতে হবে, বাজেটের ঘাটতি কমাতে হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের বাজার নির্ধারণকে অনুমতি দিতে হবে। পাকিস্তানের সরকার অতীতে ২৩ বার আইএমএফের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও অর্থমন্ত্রী দার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি আর আইএমএফের দ্বারস্থ হবেন না। ফলে সরকার কৃষি ও অন্যান্য শিল্পে ভর্তুকি কমিয়েছে, যা মূল্য সংযোজন কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। অপ্রত্যাশিত বন্যার কারণে গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান কৃষকদের জন্য ভর্তুকিরও দেয়া হয়েছে ভূমিকা।

শ্রীলংকার সঙ্গেও আইএমএফের সম্পর্ক দীর্ঘ। মোট ১৬টি চুক্তিতে অংশগ্রহণ করেছে শ্রীলংকা ও আইএমএফ। বর্তমানেও ঋণ বকেয়া আছে। আগে ঋণ সংকটের সময় আইএমএফ শ্রীলংকাকে ১৬০ কোটি ডলার দিয়ে সাহায্য করেছিল। একই ধরনের উদ্বেগের কারণে পরবর্তী বছরগুলোয় অনুরূপ অর্থ দেয়া হয়। বিশ্বব্যাপী মহামারী দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। ২০২০ সালে প্রকৃত জিডিপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে, যেখানে আগের বছরের তুলনায় সরকারি ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৯৪-১১৯ শতাংশ বেড়েছে। যদিও জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা ভালো করেছে, রয়ে গেছে ঋণ সমস্যা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের পাশাপাশি রয়েছে হিসাবের ঘাটতি, যার সবই অর্থপ্রদান সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৩ সালের ২০ মার্চ আইএমএফ নির্বাহী বোর্ড শ্রীলংকার অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কারকে সহযোগিতা করতে চার বছরের জন্য ৩০০ কোটি ডলারের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি ইএফএফ অনুমোদন করেছে। শ্রীলংকা আইএমএফের গর্ভন্যান্স ডায়াগনস্টিক এক্সারসাইজে অংশ নেয়া প্রথম দেশ। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে শ্রীলংকাকে এখনো অনেক দূর যেতে হবে। দেশটি ঋণ সংকটে রয়েছে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে ঋণ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। শ্রীলংকার ঋণদাতাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, জাপান ও প্যারিস ক্লাব। ঋণদাতারা ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে, যেখানে চীন পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছে।

অর্থনীতিবিদ ম্যানুয়েল প্যাস্টর লাতিন আমেরিকার ওপর আইএমএফের ঋণের প্রভাব নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছান যে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো আইএমএফের ঋণগ্রহণের পর মুদ্রাস্ফীতির হার এবং এর বৃদ্ধির হার উভয়ই বেড়েছে। আইএমএফের প্রোগ্রামগুলোর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক প্রভাব হলো আয়ের শ্রম অংশে হ্রাস। আইএমএফের ঋণদান দীর্ঘমেয়াদি অর্থপ্রদানে ভারসাম্য তৈরি করেনি, কারণ যখন সেখানে ঋণদান বন্ধ হয়ে গেছে, তখনই ঋণ সংকট উদ্ভূত হয়েছে। আইএমএফ লাতিন আমেরিকায় যে ঋণ সংকট পরিচালনার দাবি করে, তা আংশিকভাবে তাদের নিজেদেরই সৃষ্টি। শ্রমের অংশীদারত্বের হ্রাস তহবিলের ভূমিকা বিবেচনায় নিলে আশ্চর্যজনক নয়, যা প্রান্তিক দেশের জন্য মূল কেন্দ্র এবং শ্রমের জন্য মূলধনের দ্বৈত আধিপত্যের কাঠামো প্রদান করে। তহবিলের প্রোগ্রামগুলোর ম্যাক্রোইকোনমিক নির্দেশনা শ্রমের অংশীদারত্ব কমায় এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত শ্রেণীর জন্য অতিরিক্ত মুনাফা সৃষ্টি করে। ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য হারায়। তৈরি হয় এলিটদের প্রাধান্য। এ অতিরিক্ত মুনাফা যথেষ্ট লাভজনকতা সৃষ্টি করবে, যা প্রমাণিত ব্যক্তিগত মূলধন প্রবাহকে আকৃষ্ট করবে। তবে সম্ভবত, তহবিলের প্রোগ্রামগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত ফলাফলগুলো অব্যাহত আছে। এ ফলাফলগুলো এবং এগুলোর কারণে সৃষ্ট সামাজিক সংঘর্ষগুলো সমাজের সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। যখন আইএমএফের সুপারিশকৃত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্রোহের ফলে ৬০ জন নিহত, ২০০ জন আহত ও ৪ হাজার ৩০০ জন গ্রেফতার হয়েছিল, তখন ডোমিনিকান রিপাবলিকের পরিকল্পনামন্ত্রী আইএমএফের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‌এটি যে আমরা আমাদের বাড়ি ঠিক করতে ইচ্ছুক নই তা নয়। এটি হলো যে আমরা আমাদের বাড়ি রাখতে চাই এবং এটিকে আগুনে পুড়তে দিতে চাই না। পরিস্থিতি নেতিবাচক দিকে বাঁক নিয়েছে শুধু।’

আইএমএফ ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর দুদিন পরই ঋণের প্রথম কিস্তিতে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ। একই বছরের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তিতে আসে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তিতে ছাড় হয় ১১৫ কোটি ডলার। তিন কিস্তিতে আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিশ্রুত ঋণের মধ্যে আর বাকি অংশ ২০২৬ সালের মধ্যে চার কিস্তিতে পাওয়ার কথা। গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এখন মূল্যস্ফীতির হার বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, জানুয়ারিতে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ঋণসহায়তার সময় আইএমএফের পক্ষ থেকে বেশকিছু শর্ত বেঁধে দেয়া হয়, যার মধ্যে আছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোসহ বেশকিছু খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দেয়া হয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণের। বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করে দেয়া, নিট রিজার্ভ বাড়ানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত সংস্কার এবং ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ হ্রাসেও জোরারোপ করা হয়। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সংকট থেকে উত্তরণের পথ সহজ হচ্ছে না। শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো আইএমএফের ঋণ নেয়ার পর যা ঘটেছে, বাংলাদেশে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।

তথ্যসুত্র : বনিক বার্তা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত