জিয়াউদ্দিন বাবলু
আমাদের একজন এন্টারকটিক বিশেষজ্ঞ সলিমুল্লাহ খান আছেন।যিনি এই যুগের সক্রেটিস প্যারাডক্স হয়ে মাদ্রাসার সাথে কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুত্র মিলিয়ে আহম্মকদের কাছে দেবতা হয়ে এসেছেন। তিনি নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথের ভুল ধরার চেষ্টা করে সাহিত্য নোবেল পুরস্কার পেতে গিয়ে ভুল করে কি এবং কী সুত্র মিলাতে গিয়ে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন।অবশ্য বাংলা একাডেমি মানেই তার কাছে এনসাইক্লোপিডিয়া ও নরওয়েজিয়ান নোবেল। তিনি আলফ্রেড নোবেল এর নোবেল পাওয়ার জন্য শেক্সপিয়রকে পশ্চিম বাংলা থেকে টেনে নিয়ে পূর্ব বাংলায় বসিয়ে দেন।এই ভদ্রলোকের সাথে ঠিকানায় খালেদ মহিউদ্দিন ও হুমায়ূন কবীর হত্যাকারী ফ্রড মাজহারের বেশ মিল রয়েছে। সলিমুল্লাহ খান , খালেদ মহিউদ্দিন ও ফ্রড মজহার এই তিনজন মিলে পৃথিবীতে ‘ ফ্রডীয় সুত্র ‘ আবিস্কার করেছেন। আলবার্ট আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটির সুত্রকে মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশের বঙ্গপাল থিওরি অফ ফ্রড সুত্রের অনুকরণে মহাকাশে যাওয়ার জন্য ‘ জিন্দা অলি ‘ নামক এক মহাকাশ যান আবিষ্কার করে পুরো পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।ফ্রডিয় সুত্রানুহারে পাপেট ইউসুফ জাই এর ম্যাজিকে জিন্দা অলীর মহাকাশযানে চড়ে এরা তিনজন বর্তমানে একদল বঙ্গপালের সাথে মার্সিয়ান প্লানেটের পথে অবস্থান করছেন। মাঝপথে যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য এরা সবাই ভারত ও শেখ হাসিনাকে কোন না কোনভাবে জড়িয়ে বিবৃতি দিয়েই চলছে।পৃথিবীতে থাকতেই ফ্রড মাজহার (𝐏𝐞𝐨𝐩𝐥𝐞’𝐬 𝐓𝐫𝐢𝐛𝐮𝐧𝐚𝐥) তথা জাহানারা ইমামের গণআদালতকে ‘ মব জাস্টিস’ এর বিশুদ্ধ নমুনা মনে করে মহাকাশযানে জ্বালানি হিসেবে ভুল করে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন এর পরিবর্তে ডিজেল ভরে দিয়েছেন। আওয়ামীলীগ ও মুসলিম লীগ নিয়ে অতিরিক্ত অ্যানালাইসিস করতে করতে সলিমুল্লাহ খান মহাকাশযানের ভেতরে তেলের ডিব্বা নিয়ে ঢুকে গেছেন।খালেদ মহিউদ্দিন সবসময় নিজেকে খুব চালাক মনে করেন। তিনি তাই গোপনে পরিবেশ উপদেষ্টার উপহার দেওয়া একগুচ্ছ পলিথিনকে প্যারাশুট ভেবে সাথে নিয়ে নিয়েছেন।কিছু হলেই ‘ সব আওয়ামীলীগের দোষ ‘ বলে প্রচারের জন্য তিনি মঙ্গল গ্রহকে তার আগামীদিনের ঠিকানা হিসেবে বাছাই করে নিয়েছেন। উনাদের সাথে মহাকাশে দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সামনের সিটে বসেছেন নিজেকে ক্ষুদে নীল আর্মস্ট্রং ভেবে নেওয়া পাপেট ইউসুফ জাই। মধ্যে আকাশে শয়তান মোকাবেলার জন্য তেনারা সবসময় একদল বঙ্গপাল নিয়ে ঘুরেন।আলফ্রেড নোবেল নিঃস্ব একজন মানুষ।সে যদি পৃথিবীতে মারা যায় তবে তার জন্য এই পৃথিবীতে কেউ কাঁদবে না ভেবে বঙ্গপালের দল আলফ্রেড নোবেলের সবকিছু চুরি করে তা জিন্দাঅলী মহাকাশযানে ফিট করে দিয়েছে। এদের সবার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মঙ্গল গ্রহে ‘ ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘ ড্রোনে মহাকাশে আবু সাঈদের মেটিফ ফুটিয়ে তোলা।এর মাধ্যমে তেনারা মহাবিশ্বের এলিয়েনদের পৃথিবী নামক গ্রহে ইউসুফ জাই এর ক্ষমতা সম্পর্কে জানান দিতে চান। আবু সাঈদের সাংকেতিক কিং কং আওয়াজ নকল করে তেনারা ইতিমধ্যে হাঁস নাথ ও সার্ভিস মলম ভয়েজার তৈরি করে মহাকাশে পাঠিয়ে দিয়েছেন।মহাকাশকে খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য হেলিকপ্টার বঙ্গপাল তৈরি করে নাহেডিয়ান টেলিস্কোপ বসিয়েছেন।পুরো বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষ এখন জিন্দা অলী মহাকাশ যানের সাফল্য দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। পৃথিবীর সত্য হচ্ছে, এই পৃথিবীতে আলফ্রেড নোবেলরা পথে পথে ভিক্ষা করে আর ইউসুফ জাই, ফ্রড মাজহার, গিনিপিগ সলিমুল্লাহ ও ক্লেভার খালেদ মহিউদ্দিনরা পৃথিবীতে থেকে মঙ্গল গ্রহ জয়ের ভাইভ নেয় 🥲 চাল নেই , চুলো নেই আলফ্রেড নোবেল এর সংসার যখন ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করে চিৎকার করছে তখন সেটাকে মহাকর্ষীয় এলিয়েনের আওয়াজ ভেবে উনারা নাহেডিয়ান টেলিস্কোপের মাধ্যমে এলিয়েন সংকেত খুঁজে চলেছেন। ক্ষুধার যন্ত্রণায় আলফ্রেড নোবেল যখন মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের (𝐒𝐢𝐠𝐦𝐮𝐧𝐝 𝐅𝐫𝐞𝐮𝐝) এর ইগো ( 𝐄𝐠𝐨) ও সুপার ইগো(𝐒𝐮𝐩𝐞𝐫 𝐄𝐠𝐨) এ মুখ ঢুকিয়ে চোখের জল নিয়ে কাঁদছে , তখন ফ্রড মাজহার ও সলিমুল্লাহ খান সেই জলকে মঙ্গল গ্রহের এইলিস প্যালাস অঞ্চলের জল ভেবে 𝐖𝐨𝐰 বলে চিৎকার করে উঠতেই খালেদ মহিউদ্দিন ভেবে বসলেন, ‘ এই বুঝি শেখ হাসিনা ফিরে এসেছে! ‘ এরা মঙ্গল গ্রহে গিয়েও শেখ হাসিনা ও ভারত ফোবিয়ায় আক্রান্ত থাকবে এতে কোন সন্দেহই নেই।।মঙ্গল গ্রহের যাত্রাপথে মহাকাশ যান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তেনারা বাংলাদেশের নাসা খ্যাত ২৬ লক্ষ ভারতীয় তত্ত্বের জনক আলবার্ট আসিফ নজরুলের সাথে যোগাযোগ করে মুক্তির উপায় খুঁজতে লাগলেন। আলবার্ট আসিফ নজরুল বললেন, ” সব ভারতীয় ‘ র’ এর ষড়যন্ত্র বলে চীনা মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং’ কে একটা সংকেত পাঠান। উনারা খুব দ্রুত তিয়ানগংকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘ আমাদের বাঁচান।তিয়ানগং থেকে উল্টো ম্যাসেজ আসলো পৃথিবীতে গিয়ে গুগল চায়না ট্রান্সলেট অ্যাপস ডাউনলোড করে আবার সংকেত পাঠান । মহাকাশে ইন্টারনেট না থাকার জন্য সব দোষ ভারত ও শেখ হাসিনার উপর চাপিয়ে দিয়ে তেনারা পাকিস্তানের আইএসআই এর কাছে মেসেজ পাঠালেন jui J°ui°। ঠিক তখনই সলিমুল্লাহ খান ইউসুফ জাইকে আটকে দিয়ে বললেন, আপনার স্পেলিং ঠিক নয়! ফ্রড মজহার বলতে শুরু করলেন , উর্দু ম্যা বাত করো ! মহাকাশে বসে কোন কাজ না পেয়ে তেনারা পহেলগামের ঘটনার তাত্ত্বিক ব্যাখা শুরু করলেন।কে পহেলগাম নিয়ে হলিউড ও বলিউড মুভি বানাবে এই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন।এটাই শেষ সুযোগ মনে করে এন্টারকটিক বিজ্ঞানী সলিমুল্লাহ খান ও ফ্রড মাজহার পহেলগাম নিয়ে নোবেল পুরস্কারের আশায় নোবেল লিখতে বসে গেলেন।সবকিছুতেই ভারতের দোষ দেখাতে উনাদের বিশ্ববিখ্যাত ফ্রড থিওরির সহযোগিতা নিতে লাগলেন। ওইদিকে খালেদ মহিউদ্দিন মুচকি হেসে জিরো ডার্ক থার্টি, আর্লিং, ব্লাড ডায়মন্ড ও দ্য হাঙ্গার গেমস এর মতো করে চলচ্চিত্রে অস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্য মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর উদ্ভট তথ্য মাথায় নিয়ে লিখতে বসেছেন ‘ ‘ পেহেলগাম: বিহাইন্ড দ্য স্টোরি ‘
আর মনে মনে খালেদ মহিউদ্দিন বলে উঠলেন , ” 𝐖𝐡𝐚𝐭 𝐚 𝐬𝐭𝐮𝐩𝐢𝐝 𝐓𝐢𝐦𝐞 𝐓𝐨 𝐛𝐞 𝐀𝐥𝐢𝐯𝐞 𝐰𝐢𝐭𝐡 𝐭𝐡𝐨𝐬𝐞 𝐧𝐨𝐬𝐞𝐧𝐬𝐞!
সত্য সবসময় সুন্দর।
আলফ্রেড নোবেল

