বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

মায়ের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে আছে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা কল্প কাহিনি

আপডেট:

রিন্টু আনোয়ার
কলাম লেখক

বাংলাদেশে সামরিক একটি বিমান রাজধানীর একটি স্কুলের উপর বিধ্বস্ত হয়ে বহু শিশু, শিক্ষক এবং পাইলটসহ নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি গোটা জাতির জন্য শোকের, ব্যথার ও আত্মসমালোচনার একটি কঠিন মুহূর্ত।একটা স্কুলে শিশুর লাশ পড়ে আছে মায়ের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে আছে দেশের জনগন মর্মাহত সেখানে কীভাবে শিশুদের লাশের উপর দিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে একটি পক্ষ এটাই মাথায় ঢুকছে না। কিছু বিষয় স্পস্ট করতেই হবে জাতিকে উর্ধতন কর্মকর্তাদের কারন দেশে প্রত্যেকটি মৃত্যু/হত্যার জন্য দায়বদ্ধতা থাকলে দেশে এরকম বোল্ড ডিসিশন নিতে গেলে উর্ধতন কর্মকর্তাদের ভাবতে হবে বারবার।বিমান বাহিনীর সামরিক বিমান কেনো ঢাকার মতো পৃথিবীর সবথেকে বেশি ঘনবসতিপুর্ন এলাকায় এমন সামরিক বিমানের প্রশিক্ষন নেয়া হয় যেখানে কিছুদিন আগেও চট্টগ্রামে এমন এক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়ে প্রান যায় বিমান বাহিনীর এক চৌকষ পাইলটের? ওই ঘটনার পরও বিমান বাহিনী আবারও এমন ঘনবসতিপুর্ন জায়গায় কেনো প্রশিক্ষন বিমান চালাতে দেয়া হলো? অবশ্যই বিমান বাহিনীর গাফিলতিতে আজ আমরা নিরীহ বাচ্চাদেরকে হারালাম।
পক্ষান্তরে আর একটি কথা না বললেই নয় বিমান বাহিনীর প্লেন পড়ছে দেখে কত কত দোষ দিচ্ছি এখানে যদি বিমান বাহিনীর প্লেন না পড়ে যদি কোন যাত্রীবাহী বিমান পড়তো তাহলে কাকে দোষ দিতেন আপনি? কিছুদিন আগেও ভারতে ভয়াবহ যাত্রীবাহী বিমান দূর্ঘটনা ঘটে এবং বিমানটি একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে পড়ে যেখানে অনেক নিরীহ মানুষের প্রান যায়। উত্তরায় গেলে দেখা যায় প্রত্যেকটি বাড়ির ছাদ ছুয়ে যায় বড় বড় বিমানগুলো তখন আপনার চেতনা কোথায় যায়? সাধারনত এয়ারপোর্ট এর আশেপাশে অনেক জায়গা থাকা প্রয়োজন কারন যে কোন বিমান যে কোন পরিস্থিতিতে পড়লে যেনো একটি জায়গা পায় প্লেনটি নামানোর আর ঢাকায় জায়গা কোথায়? ঢাকায় তো খালি বিল্ডিং আর বিল্ডিং আর উত্তরার এই বড় বড় বিল্ডিংগুলার পারমিশন দেয় এই রাজউক তাহলে আপনি এখানে দায় দিবেন কাকে? আপনি সচিবালয়ে কেনো গন্ডগোল করতে গেলেন অথবা কেনইবা শিক্ষা সচিবকে বরখাস্ত করা হলো বিমান বাহিনীর প্লেন এর ব্যাপারে কী শিক্ষা সচিব শ্রদ্বেয় জুনায়েদ সিদ্দিকী ভাই এর কোন দায়বদ্ধতা আছে? মব সৃস্টি করে এই বরখাস্তকে আমরা ধিক্কার জানাই। আপনি উত্তরায় বহুতল ভবনেও থাকতে চান আবার আপনি প্লেন এর ল্যান্ডিং এর জন্য বড় জায়গাও চান তাহলে এখানে কী করার আছে সরকারের? রাজউক আবার কোন ব্যাবস্হা নিলে এই আপনি আমিই বলবো কোন নোটিশ না দিয়ে আমার বাড়ি ভাঙ্গতেছে। তাহলে সরকার যাবে কোথায়?
এরই মধ্যে আরেকটি বিস্ময়কর ও দুঃখজনক ঘটনা হলো আমাদের শ্রদ্ধেয় নানা ভাই ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্যার যিনি প্রকাশ্যে বিশ্বের কাছে অর্থ সাহায্য চাইছেন এই একটি দুর্ঘটনার জন্য তাহলে কী বলবো আমরা আমাদের দেশের সরকারের একটি বিমান বিদ্ধস্ত হলে তারপর যে খরচটুকু করতে হয় তাও কী নেই আমাদের রিজার্ভে?সবথেকে বড় কথা যারা সন্তান হারিয়েছে আপনি তাদের আর্থিক অনুদান দিয়েই দায় সাড়বেন এইসব দায়মুক্তি করে তো আপনি ভবিষৎ এ এমন হলে আবার টাকা দিয়ে জীবনের মূল্য কিনে নিবেন এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

বিজ্ঞাপন

👉 আমরা চাই—
১। বিমান দুর্ঘটনায় শহীদদের সঠিক সংখ্যা স্পস্ট করা জাতিকে
২। এই বিমান দুর্ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক।

৩। শহীদ শিশু, শিক্ষক এবং পাইলটদের সবার রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হোক।

বিজ্ঞাপন

৪। যারা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে বিদেশি লবিংয়ে ব্যস্ত, তারা আর যেন “গরিবের বন্ধু” সেজে আমাদের চোখে ধুলো দিতে না পারে।
৫। যেটা সবথেকে বেশি প্রয়োজন “পরিকল্পিত নগরায়ন”গঠন করা শুধু ঢাকা নয় পুরো বাংলাদেশ জুড়েই। ৬। জাতীয় ট্র্যাজেডি নিয়ে যারা রাজনীতি করে, তাদের রাজনৈতিক এবং নৈতিক শাস্তি হোক। এতোটা বড় মাপের মানবিক বিপর্যয়ের পর যেখানে সবার উচিত ছিল একত্রিত হয়ে শোক প্রকাশ ও ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি সেখানে একটি রাজনৈতিক পক্ষ এই মর্মান্তিক ঘটনার মাঝেও ‘অপপ্রচার’, ‘ষড়যন্ত্র’ করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ওহ আর একটি কথা এখন HSC পরীক্ষার্থীরা এই ঘটনায় আবেগপ্রবন হয়ে আবার অটোপাশ না চেয়ে বশে এই চিন্তাতেই আছি। কপি:ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ইউনুস,স্নাতকোত্তর- অপরাধ বিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত